রাজ্যে যে অনাচার চলছে তার প্রতিবাদেই বিজেপিতে যোগ দিলাম ; দল ত্যাগ করেই বিস্ফোরক মিহির - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 28 November 2020

রাজ্যে যে অনাচার চলছে তার প্রতিবাদেই বিজেপিতে যোগ দিলাম ; দল ত্যাগ করেই বিস্ফোরক মিহির


নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহারদল থেকে অব্যহতি নেওয়ার দীর্ঘ ৫৬ দিন পর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিজেপিতে যোগদান করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। শুক্রবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে মিহির বাবুর হাতে গৈরিক পতাকা তুলে দেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল থেকে প্রথম কোন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিলেন।



গত ৩রা অক্টোবর তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলে মিহির বাবু। তারপর থেকে ক্যামেরার সামনে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বারংবার ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। কখনও তিনি প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক সংস্থার নাম না করে বলেন “ঠিকাদারী সংস্থা দিয়ে দল চলতে পারে না।” কখনও রাজ্য নেতাদের “পরগাছা” সম্বোধন। কালিপুজোর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন “এ দল এখন আর আমার দিদির দল নয়, দিদি এখানে নিস্পৃহ। তাই দিদির লোক এখানে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন। সব কিছু মেনে নিয়ে জো হজুর করে টিকে থাকো, নইলে তফাত যাও।” তার মধ্যে বিজয়া সারতে মিহির বাবুর বাড়ীতে দেখতে পাওয়া গিয়েছিলো কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে। তার পরের দিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তপরের মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন তার শহরের বাড়ীতে গেলেও সেখানে দেখা মেলে নি মিহির বাবুর। 



মিহির বাবু যে তৃণমূল কংগ্রেসে আগামী দিনে থাকছেন না তখনই চিত্রটা অনেক টাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তারপর শুক্রবার কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক এর সঙ্গে মিহির গোস্বামীকে দেখা গেল দিল্লীতে বিজেপির সদর দপ্তরে। মিহির বাবুর হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এদিন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ও কৈলাস বিজয়বর্গীয় ছাড়াও এই যোগদান পর্বে উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং, বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আর.পি. সিং সহ দিল্লীর অনান্য বিজেপি নেতারা। বিজেপিতে যোগদানের পর মিহির বাবু বলেন- “রাজ্যে যে অনাচার চলছে তার প্রতিবাদে আমি গত ৩রা অক্টোবর তৃণমূল দলের সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলাম। আজ বিজেপিতে যোগ দিলাম।” আরও তিনি বলেন- “বছরের পর বছর ধরে উত্তরবঙ্গ উপেক্ষিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানাতেও পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয় নি।” 



এদিন কোচবিহার লোকসভার বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বলেন,  “তৃণমূল কংগ্রেস দলটা আজকে এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে দলটা যারা তৈরী করেছিল, যারা দলের স্তম্ভ ছিল আজকে কার্যত তারা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে দলের কাছে। আজকে তৃণমূল কংগ্রেস শুধুমাত্র একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। ২০২১ -এর নির্বাচনের প্রাগ মুহূর্তে এসে আমি বলবো যে তৃণমূল কংগ্রেসে যে ভরাডুবি হতে চলেছে তার শুভ সূচনা আজকে দিল্লীতে হল।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad