প্রচার করে লোক জড়ো করে হিন্দু পাড়ায় হামলা লুটপাট অগ্নিসংযোগ, মন্দির সহ ২০টি বাড়ি পুড়ে ছাই ।
মুরাদ নগর, কুমিল্লা, বাংলাদেশ। জঙ্গিপনার তান্ডবে ছারখার কয়েকটি পরিবার। ত্রস্ত গোটা দেশের হিন্দু সমাজ। মুরাদ নগরের বর্বরতার ঘটনা ফি বছর ঘুরে ফিরে আসে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের হিন্দু পাড়া। এরকম ঘটনা ঘটলেই ভয়ে রাতের অন্ধকারে দেশ ছাড়েন কিছু হিন্দু। ৭১ সালে পাকিস্তান শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পরও নানা কারণে দেশটির হিন্দু পাড়াগুলো আক্রান্ত হয়ে আসছে বিক্ষিপ্ত ভাবে। বাংলাদেশের নাগরিক প্রিয়া সাহা আমেরিকার রাষ্ট্রপতি প্রিয়া সাহার সেই বিতর্কিত মন্তব্য কি তাহলে সত্যিই? মুরাদ নগর সেই প্রশ্নটি ফের তুলে দিয়েছে।
৭১ পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বড়ো ধরণের কোনও ধর্মীয় হিংসার ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। তবুও উল্লেখ যোগ্য হারে হিন্দু কমেছে বাংলাদেশে। পশ্চিমবঙ্গে বেড়েছে হিন্দুর সংখ্যা। পাশাপাশি সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় ধরা পড়েছে হাজার বাংলাদেশী যাদের একটা অংশ হিন্দু। বহু বাংলাদেশীদের দাবি, চোরাগোপ্তা হিংসা দেশটিতে ঘটে ফলে হিন্দুরা পালিয়ে যান ভারতে।
ইসলাম অবমাননার অভিযোগে মুরাদ নগরের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ। মুরাদ নগরে গিয়ে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম গুলো যে প্রতিবেদন করছে তা ভয়াবহ।
বাংলাদেশের প্রথম শ্রেনীর অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বিডি নিউজ ২৪ ডট কম তাদের প্রতিবেদনে বলছে, ধর্ম অবমাননার ধুয়ো তুলে মাইকে প্রচার করে লোকজন জড়ো করে মুরাদনগরের কোরবানপুরে হিন্দু পাড়ায় হামলা অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। অচেনা হামলাকারীরা করেছে লুটপাট। দেড় ঘন্টা ধরে চলে লুটপাট সহ জঙ্গি তান্ডব। আগুন নেভাতে দমকলের গাড়ি এলে আটকে রাখা হয়। হিন্দুদের বসত ভিটে পুড়ে ছাই হলে তবে হামলাকারীরা পাড়া ছাড়ে। তারপর ঢুকতে পারে দমকল।
হামলার শিকার হয়, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পবন কুমার শিবের বাড়ি সহ কয়েকজন হিন্দুদের বাড়ি।
পুলিশ, জনপ্রতিনিধি , স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন পরিকল্পনা করে হামলা করা হয়েছিল।
স্থানীয় এক ব্যক্তি ফ্রান্সে থাকেন। তিনি নবীর কার্টুন সমর্থন করে পোষ্ট করেছেন এমনটা ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে প্রশংসা করা পোষ্টের ফেসবুক স্ক্রিনশট নিয়ে বাঁধা হামলা চললেও স্থানীয়দের অনেকেই দেখেননি বরং শুনেছেন বলে দাবি করেছেন।
ব্যাটারি চালিত রিক্সায় মাইক বেঁধে হামলার জন্য প্রচার করলেও পুলিশ কি করছিল তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বিতর্কিত পোষ্টের সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করলেও হামলা কেন? শতাধিক ক্ষুব্ধরা মিছিল করে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা করার আগে রাস্তার পাশের কালি মন্দির ভাংচুর করে। হাজার খানেক মানুষ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পবন কুমার শিবের এবং তার শরিকদের মোট কুড়িটি বাড়ি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানকার একটি মনসা মন্দিরও ভাঙা হয়। পরে পোষ্ট করা ব্যক্তির বাড়িতে হামলা লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের কাছে ছিল পেট্রোল।
এই হামলায় নাম জড়িয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামীলীগের রাজনীতি। পবন কুমার শিব আওয়ামীলীগ করলেও শেষ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জিতে দ্বিতীয় দফায় চেয়ারম্যান হয়েছেন। স্থানীয় ইউনিয়নে ১৮ শতাংশ আর কোরবানপুর গ্রামে ৩০শতাংশ হিন্দুরা বসবাস করেন। কোরবানপুরের হামলার নেপথ্যে প্রাক্তন কোনও সাংসদের জড়িত থাকার সন্দেহ করছেন স্থানীয় মুসলিমরা। ১৯৯৯ সালে পবন কুমার বড় দাদার মৃত্যুও ছিল অস্বাভাবিক।

No comments:
Post a Comment