|| ©সত্যজিৎ চক্রবর্তী ||
" ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে রিগিং ছাপ্পা ও সন্ত্রাস হবে না। এই গ্যারান্টি আমি নিচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ নিয়ে আপনাদের ভাবতে হবে না। নিজেদের কাজ করে যান। প্রতিটি বুথে ৪০ জনের কমিটি করতে হবে। বুথ শক্তিশালী না হলে ক্ষমতায় এলেও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন না। " পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতা কর্মীদের জন্য দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা অমিত শাহের এই টনিক কতটা কাজে আসবে তা সময় বলবে।
সংগঠনের জন্য অমিত শাহের করা মন্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজ্যের রাজনৈতিক সর্ব স্তরের বিশ্লেসকরা । কারণ, অমিত শাহের সাংগঠনিক চালেই বিজেপির আজকের সাফল্য একথা বিলক্ষণ জানেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো থেকে ভোট কুশলী পিকেও।
রাজনৈতিক সচেতন বিচক্ষণদের ব্যাখ্যা অমিত শাহ বিজেপির রাজ্য সংগঠনের ওপর নির্ভর করছেন না পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে। অমিত শাহের হাতে নিশ্চয়ই একাধিক তুরুপের তাস আছে। নইলে সংগঠনের জন্য এমন মন্তব্য করতে পারতেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেকসকদের আরও দাবি, অমিত শাহের সফর থেকে যারা ভাবছিলেন তৃণমূলের হেবিওয়েটরা যোগ দেবে তাদের বোঝা উচিৎ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা কলকাতা সফর বাতিল করে ওই সময়ে শাহ এলেন কেন। শাহের কলকাতা সফর মিডিয়া যা দেখতে পায় নি খুঁজে পায়নি সেটাই করেছেন অমিত শাহ। ক্যাডার বেস পার্টির এটাই হল বন্ধ দরজা বৈঠকের শক্তি।
বিশ্বস্ত সুত্র থেকে পাওয়া তথ্য, অমিত শাহ ২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের থেকে সংগঠন শক্তিশালী করার দিকে বেশি জোর দিতে বলেছেন। সুত্রের ব্যাখ্যা, অমিত শাহ জানেন, বাম ভোটের বিরাট অংশ তৃণমূল সরকার সরাতে বিজেপির ভোট বাক্স ব্যবহার করতে পারে। এবং সেটাই হবেও। পরবর্তীতে বামেরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই আন্দোলন করে বাম সংগঠন ও ভোট বাক্স শক্তিশালী করে ক্ষমতায় ফিরতে পারে। সেক্ষেত্রে বিজেপি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে।
অমিত শাহ বামেদের ওপেন সিক্রেট কৌশল বুঝতে পেরেই বলেছেন, ক্ষমতায় এলেও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন না। ক্ষমতা ধরে রাখতে বুথ স্তরে ৪০ জনের কমিটি এজন্যই তৈরি করতে বলেছেন।
সুত্রের আরও দাবি, বিজেপি রাজ্যে শিল্প সম্মেলন করতে চলেছে। ওই সম্মেলনে যদি শিল্পপতিরা বাংলায় শিল্প করতে আগ্রহী হন তাহলে বাংলার প্রধান সমস্যা বেকারি বিজেপি মুখি হবে।
স্বাধীনতার পর বাংলায় যে শিল্প তৈরি হয়েছিল বাম আমলে তা ধ্বংস হয়েছে একথা তৃণমূল ও কংগ্রেস সহ বিজেপি বলে থাকে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার বাংলায় গত দশ বছরে শিল্প আনতে ব্যর্থ হয়েছে তা বাম কংগ্রেস বিজেপি এক সুরে অভিযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চপ মুড়ির দোকান দিয়ে সংস্থান করার পরামর্শ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোলড হয়েছে। ফলে বিজেপির শিল্প সম্মেলন সফল হলে বিজেপি বাংলার সব থেকে বেশি সংখ্যক ভোটার যুব সমাজকে ভোট বাক্সে টানতে পারবে।
পশ্চিমবঙ্গের ভৌগলিক অবস্থান বৈদেশিক ব্যবসার জন্য আদর্শ। শিল্পের স্বপ্ন দেখা উত্তর বঙ্গের বিরাট অংশের মানুষ বারংবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বাম আমল থেকে বঞ্চিত করে রাখার অভিযোগ তোলে। বিজেপি যদি উত্তরবঙ্গে ও দক্ষিণ বঙ্গে শিল্প বসাতে পারে তাহলে একদিকে যেমন স্থানীয় বেকারত্ব দূর হবে অন্যদিকে বাংলাদেশের বৃহত্তর বাজার ধরতে পারলে শিল্প লাভবান হবে।
অভিজ্ঞ মহলের ব্যাখ্যা, বিজেপি হল এক মাত্র দল যাদের বাংলায় কোনও এলিট শ্রেণীর সদস্য নেই । বাংলার শিক্ষিত মহলের বিরাট অংশ তৃণমূলের শাসনে ক্ষুব্ধ জনপ্রতিনিধি ও তাদের সাগ্রেদদের ব্যবহারে।এমত অবস্থায় বিজেপি যদি শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবী ও ব্যবসায়ী ক্ষেত্র থেকে প্রার্থী দাঁড় করাতে পারে তাহলে মুহুর্তের মধ্যে ছবি বদলে যাবে ভোট প্রেক্ষাপটের। বিজেপির শিল্প সম্মেলন তাই গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ভোটাররা সেক্ষেত্রে আস্থা পেতে পারে নতুন ঘরানার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে। অমিত শাহের ভোটের রিগিং সন্ত্রাস ও মুখ নিয়ে ভাবা এবং প্রার্থী বাছাই নিজের হাতে রেখে সংগঠনকে কেবল বুথের তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রবীন নাগরিকদের যুক্তি, অমিত শাহ দলিত আর মতুয়া ঘরে খেলেন বটে তবে জাত পাত ধর্মের তাস খেলেন নি। বরং চুপ থেকে গেলেন। উল্টোদিকে মমতা ব্যানার্জি মতুয়া উন্নয়নে টাকা বরাদ্দ করলেন অমিত শাহ আসার আগেই। বাম এবং তৃণমূল অমিত শাহের খাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে জাত পাত বর্ণ রাজনীতির আক্রমণ করলেন। অর্থাৎ বিজেপি বিরোধীদের জন্য জাত পাত বর্ণ কেন্দ্রীক ফাঁদ পেতে নিজেরা ভাতের রাজনীতি করবেন তা অমিত শাহ ভাত খেয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন। প্রবীন রাজনৈতিক সচেতনদের যুক্তি, অমিত শাহরা গুছিয়ে নিয়ে তবেই হয়ত খেলতে নামবেন। অমিত শাহের সফরে তেমন কয়েকটি ইঙ্গিত ছিল। দলিত ও মতুয়া বাড়িতে খাওয়া আর পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর বাড়িতে যাওয়ার ফসল বিজেপির ঘরে উঠতেই পারে।
রাজনৈতিক সচেতন শিক্ষিতদের ব্যাখ্যা, তৃণমূল সরকারের পাইয়ে দেওয়ার সুবিধাই কাল হল। উন্নয়ন করেও না পাওয়ার অংশের ক্ষোভে পরিনত হল। না পাওয়ার সংখ্যাই তো বেশি। এই সংখ্যাই ২১ নির্বাচনে ফ্যাক্টর। বিজেপি ফ্যাক্টর যদি কাজে লাগাতে পারে তাহলে দুই তৃতীয়াংশ আসন পাবে বিজেপি অমিত শাহের দাবি মিলতেই পারে।
©সত্যজিৎ চক্রবর্তী। সাংবাদিক R Plus News ( অতিথি লেখক )।

No comments:
Post a Comment