আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তির দাবীতে পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও আদিবাসী সমাজের - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 8 October 2020

আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তির দাবীতে পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও আদিবাসী সমাজের


নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুর:  এক আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগে দোষী যুবকের কড়া শাস্তি ও আদিবাসী মহিলাদের নিরাপত্তার দাবীতে বিকাল থেকে  রাত অবদ্ধি পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল আদিবাসী সমাজ। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন এলাকার রামপুর পুলিশ ফাঁড়িতে। যদিও ঘটনার খবর পেয়েই রামপুর  ফাঁড়ি থেকে পুলিশ তদন্তে নেমে যার বিরুদ্ধে নিগৃহিতা আদিবাসী মহিলার অভিযোগ, সেই আইনুল মোল্লাকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। পরে পরিস্থিতি ক্রমশই ঘোরালো হয়ে উঠছে দেখে আটক ওই যুবককে ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে তপন থানায়  পাঠিয়ে দেয় রামপুর পুলিশ ফাঁড়ি। এদিকে  উত্তেজিত আদিবাসী সমাজের পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে রাখার খবর পেয়ে জেলা সদর বালুরঘাট থেকে রামপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ছুটে যান  জেলা পুলিশের ডি এস পি( (ডি এন টি) ও সার্কেল ইনেসপেক্টর। যদিও জেলা পুলিশের ওই দুই উচ্চ আধিকারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে দফায় দফায় কথা বলে  রাত পৌনে নয়টা নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে  সক্ষম হন। তবে আদিবাসী সমাজের লোকজন পুলিশের উচ্চ পদস্থ অফিসারের আশ্বাসের পর পুলিশ ফাঁড়ি ছেড়ে গেলেও এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে গভীর রাত অবধি চাপা উত্তেজনা ছিল। 

স্থানীয়  এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ তপন থানার রামপুর এলাকার ১৪ মাইলের ধূলচন্দ্রিয়া এলাকার এক আদিবাসী রমনী তার কোলের শিশুকে নিয়ে  স্থানীয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান, শিশুটির চিকিৎসার ব্যাপারে। সেখান থেকে  নিজের গ্রামে ফিরে আসার সময়  টিপ টিপ করে বৃষ্টি  হচ্ছিল। সেই সময় গ্রামের আলের রাস্তার উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ওই আদিবাসী মহিলাকে একা পেয়ে এলাকার  আইনুল মোল্লা ( সরকার) নামে এক যুবক তাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি করে ও টেনে হেঁচড়ে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ। আদিবাসী মহিলা তাকে  বাধা দিতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে কোলের শিশুটিকে নিয়েই ধানের জমির জলের মধ্যে পড়ে যান। সেই সময়ও ওই অভিযুক্ত যুবক তাকে শ্লীলতাহানী করে তাকে টানা হ্যাচড়া করে। অভিযোগ, টানা হ্যাঁচড়ায় আদিবাসী মহিলার শরীরের নানান জায়গায় কেটে যায়। এমত অবস্থায় ওই আদিবাসী মহিলা রুখে দাঁড়ালে  অভিযুক্ত যুবক সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে এলাকার আফজল নামে এক ব্যক্তির বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। অভিযোগ, আফজল ওই আদিবাসী মহিলাকে কোন সাহায্য না করে উলটে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। এরপরেই ওই আদিবাসী মহিলা কাঁদতে কাঁদতে তার গ্রামে গিয়ে তার সাথে ঘটা ঘটনার কথা বললে নিমেষেই উত্তেজনা দেখা দেয়।  

এদিকে গ্রামের ওই শ্লীলতাহানীর ঘটনার খবর রামপুর পুলিশ ফাঁড়িতে এলে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।  সেখানে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গ্রামে ঢুকে ওই অভিযুক্তকে পাকড়াও করে রামপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসে, তখন বিকেল  চারটে। এরপরেই ওই নিগৃহীতার গ্রাম থেকে ওই অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবীর পাশাপাশি আদিবাসী মহিলাদের  নিরাপত্তার দাবীতে পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করতে ছুটে আসে। বিকাল সাড়ে চারটে থেকে রাত পৌনে নয়টা নাগাদ রামপুর পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে তারা। পরে পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসারদের আশ্বাসে তারা ঘেরাও বিক্ষোভ উঠিয়ে নিয়ে গ্রামে  ফিরে যায়। যদিও পুলিশ জানিয়েছে তখনও পর্যন্ত তাদের কাছে এব্যাপারে কোন অভিযোগ জমা পড়েনি।  



No comments:

Post a Comment

Post Top Ad