নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর আলিপুরদুয়ারে আসার ২৪ ঘন্টা আগেই হেলিপ্যাড বিতর্কে জড়াল শাসক দল তৃণমূল। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যপালের আসার খবরে, আলিপুরদুয়ার থানার ঠিক বিপরীতে প্যারেড গ্রাউন্ডে নির্মিত হেলিপ্যাড ভেঙ্গে দিয়েছে শাসকদল, যাতে রাজ্যপালের হেলিকপ্টার আলিপুরদুয়ারে অবতরন করতে না পারে। তাই সেনা বাহিনীকে রাজ্যপালের জন্য নতুন করে প্যারেড গ্রাউন্ডের পূর্ব দিকে মুক্ত মঞ্চের সামনে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে হেলিপ্যাড নির্মান করতে হচ্ছে। তবে রাজ্যপালকে পর্যটক বলে কটাক্ষ করে তৃনমূলের পাল্টা দাবী, রাজ্যপাল এমন কোন বড় বিষয় না যে, তৃণমূল অন্য সব কাজ বাদ দিয়ে হেলিপ্যাড ভাঙ্গতে যাবে। আসলে বিজেপি নেতৃত্ব জীবনে রাজ্যপাল দেখেনি। তাই এমন আবোল-তাবোল মন্তব্য করছে।
বছর তিনেক আগে প্যারেড গ্রাউন্ডে থানার সামনে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে একটি হেলিপ্যাড নির্মান করে রাজ্য সরকার। সেই হেলিপ্যাড মূলত রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য হেভিওয়েট প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের হেলিকপ্টার অবতরনের জন্য নির্মান করা হয়। সেই হেলিপ্যাডেই অবতরন করার কথা ছিল জগদীপ ধনকরের। যদিও রাজ্যপালের হেলিকপ্টার অবতরনের আগে সেনাবাহিনীর তরফে এই হেলিপ্যাডে দুটি হেলিকপ্টার মহড়া দিতে এসে দেখতে পায় হেলিপ্যাডটি অবতরনের অনুপযুক্ত এবং ঝুকিপূর্ন। যে কোন সময় এই হেলিপ্যাডে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। তাই রাজ্যপালের হেলিকপ্টার অবতরনের আগেই সেনাবাহিনীর তরফে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্যারেড গ্রাউন্ডের মুক্ত মঞ্চের সামনের কংক্রিটে অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মান কাজ শুরু করেন সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। বৃ্হস্পতিবার সেই নয়া হেলিপ্যাডের শেষ মুহুর্তের কাজ করছে সেনাবাহিনী। যদিও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে থানার থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত এই হেলিপ্যাডটি কিভাবে নষ্ট হল? কেন এত টাকা খরচ করে নির্মান হওয়া হেলিপ্যাডটির এই অবস্থা?পুলিশের চোখের সামনে কিভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এই হেলিপ্যাড? এই নিয়ে তদন্তের দাবী জানিয়েছে জেলা বিজেপি সভাপতি গঙ্গা প্রসাদ শর্মা।
আলিপুরদুয়ার জেলা তৃনমূলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন ওনার যদি আসার হতো ট্রেনের লাইন আছে, পাশের জেলায় হেলিপ্যাড আছে, সেখানেই নামতে পারতেন। কেউ, কি, চিন্তা ভাবনা করে আসছেন সেটা তার ব্যাক্তিগত বিষয়। কেউ যদি রাজনীতি করতে আসেন সেটাও পরে বোঝা যাবে।
সৌরভ জানান, গালওয়ান ভ্যালিতে শহীদ বীর বিপুল রায়ের পরিবারের পাশে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর হাত রয়েছে। তাই এখানে বিনা কারনে কারও এসে লাভ নেই।

No comments:
Post a Comment