রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি বিজেপির কাউন্সিলর এবং টিটাগড় পৌরসভার এই অঞ্চলের জনপ্রিয় যুব নেতা মনীশ শুক্লা হত্যার তদন্তে গ্রেফতার দুই । তদন্তকারীরা মনীশ হত্যার অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে বরাকপুর এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম মোহাম্মদ খুররম খান ও গুলাব শেখ। রাজু নামে আরেক ব্যক্তি রাডারে রয়েছেন। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, মনীশের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল এবং জানা গিয়েছিল যে তাঁর কারণে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে তদন্তকারীরা হত্যার দ্বারপ্রান্তে আসতে মরিয়া।
রবিবার সন্ধ্যায় চার বন্দুকধারীরা টিটাগড় থানার সামনে বিজেপি কার্যালয়ে মণীশ শুক্লার শরীরে গুলি চালায়। উচ্চ মানের নাইম এমএম বা মিনি কার্বাইন দিয়ে গুলি করা হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এই ঘটনার কারণে রাজ্যের রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি নেতৃত্ব একযোগে তৃণমূল-পুলিশের মিলন বানচাল করে এবং সিবিআই তদন্তের দাবি করে। অন্যদিকে, রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডিকে মনীশ শুক্লা হত্যার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রবিবার সন্ধ্যা সাত টার দিকে মণীশ টিটাগড় থানার সামনের বিজেপি কার্যালয়ে এসেছিলেন। নিরপত্তারক্ষিরা সর্বদা তাঁর সাথে থাকলেও রবিবার কেউ ছিল না। মনি থানার উল্টোদিকে পার্টি অফিসে ঢুকে চা অর্ডার করে। এ সময় অন্যান্য কর্মীরা তাকে পার্টি অফিসে রেখে চা আনতে যান। এই সুযোগে ব্যারাকপুরের দিক থেকে দু'জন দুষ্কৃতী দুটি বাইকে আসে একটি বন্দুক নিয়ে মণীশের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। মনিশ মাটিতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তখন তার বাইক নিয়ে শ্যামবাজারের দিকে পালিয়ে যায়।
তদন্ত শেষে পুলিশ জানতে পারে যে কয়েক জন লোক ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে মনীশ শুক্লার চলাফেরার দিকে নজর রাখছিল। মাস্ক পরা কয়েকজন মনীশের গতিবিধি নজর রেখে তা মোবাইলের মাধ্যমে পাঠাচ্ছিল । এর পরে মনিশ দলীয় কার্যালয়ে একা থাকার সুযোগে নিয়ে দুর্বৃত্তরা গিয়ে গুলি করে।
মনীশ হত্যার ঘটনায় সোমবার ব্যারাকপুর থেকে কলকাতায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। বিটি রোড অবরোধ, টায়ার জ্বালানো প্রতিবাদের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিজেপি কর্মীরা ও সমর্থকরা। সোমবার সিআইডি তদন্তকারীরা খুররম ও গুলাব শেখকে গ্রেপ্তার করে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণ হ'ল মনীশ হত্যা। কয়েক বছর আগে খুররামের বাবার হত্যার ঘটনায় মণীশ শুক্লার নাম ছিল। তখন থেকেই তার লক্ষ্য ছিল। তিনি এর আগে 3 বার তার প্রতিশোধ থেকে বেঁচেছিলেন কিন্তু এবারও তিনি আর বাঁচতে পারলেন না। তদন্তকারীরা উদ্ধার করেছেন যে মনীষকে হত্যার সঠিক পরিকল্পনা কি রকম ছিল। খুনিরা একমাস ধরে বিজেপি নেতার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিল। সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটিতে গেলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় । রবিবার সন্ধ্যায় অভিযান অব্যাহত ছিল। মণীশের শরীরে প্রায় ১৫ টি গুলি চালানো হয়েছিল।
সিআইডি সূত্রে খবর, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে খুররম ও গুলাব শেখকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাইকে দুর্বৃত্তদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। হত্যার সাথে জড়িত অন্যদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তবে সিআইডি তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছিলেন যে মণীশ শুক্লাকে রাজনৈতিক কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছিল।

No comments:
Post a Comment