অনিরুদ্ধ ব্যানার্জী, বালি: সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিদ্ধস্ত কলকাতা, ১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭, সোমবার—গান্ধীজি মৌনব্রত রেখেছেন, পরে ঠিক করলেন অনশন করবেন, যতদিন না এই অবস্থা ঠিক হয়, তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।
ওই দিন, রাত দশ টা—বেলেঘাটার "Hydari Mansion"-এর বাইরে এক গন্ডগোল দানা বাঁধছে। গান্ধীজি দরজার সামনে এসে উপস্থিত হলেন। একটা লাঠি, আরেকটা ইঁটের টুকরো তাঁকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হলে সেটি গিয়ে লাগে তাঁরই পাশে দাঁড়ানো এক মুসলিম যুবকের গায়ে। তখনকার মতো কোন মতে গন্ডগোল সামাল দেওয়া হয়।
৩ রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭, বুধবার—শচীন্দ্রনাথ মিত্র ও স্মৃতীশ বন্দ্যোপাধ্যায়- এর নেতৃত্বে শহর জুড়ে এক ধর্মনিরপেক্ষ-শান্তি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। উদেশ্য ছিল, শহরের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা ও শান্তি কায়েম করা। মুরগীহাটা-র কাছে শচীন্দ্রনাথ মিত্র ও পার্ক সার্কাস-এর কাছে স্মৃতীশ বন্দ্যোপাধ্যায় দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত হন ও গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন স্মৃতীশ বন্দ্যোপাধ্যাযের সতীর্থ সুশীল দাশগুপ্ত। ৫ দিন ভর্তি থাকার পর উনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭—সুরাবর্দীর উপস্থিতিতে, প্রায় ৪০ জন হিন্দু-মুসলিম নেতৃবৃন্দর সাক্ষরিত শান্তির সনদ গান্ধীজির কাছে প্রেরণ করা হয়। গান্ধীজি তাঁর ৭৩ ঘন্টার অনশন ভঙ্গ করেন।
রক্তের অক্ষরে যিনি মৈত্রী, শান্তি ও মিলনের যে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা আজ বিস্মৃত। স্বাধীনোত্তর ভারতের সেই মহান শহীদ স্মৃতীশ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আবক্ষমূর্তি ও স্মৃতিস্তম্ভ ১৯৪৮ এর, ২১শে নভেম্বর উন্মোচন করেন তৎকালীন রাজ্যপাল কৈলাস নাথ কাটজু মহাশয়। উত্তর পাড়ার দিকে মুখ করে বালিখাল-এ বসান হয় তাঁর আবক্ষমূর্তি ও স্মৃতিস্তম্ভ। প্রথম শহীদ দিবস পালন করা হয় ৩ রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮।
তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের চিত্রিত রূপরেখা গঠন ও তার ভারত ব্যাপী প্রদর্শনী। কলকাতার শ্রদ্ধানন্দ পার্ক, পূর্বের বোম্বে প্রেসিডেন্সি, দিল্লী, ইন্দোর সারা ভারত জুড়ে চলে তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস প্রদর্শনী।
বালীর সুধীবৃন্দ, আজ ৩ রা সেপ্টেম্বর স্মৃতীশ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আবক্ষমূর্তি ও স্মৃতিস্তম্ভ-এ মাল্য দান করেন। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু ভট্টাচার্য্য , ৫৩ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন পৌরপ্রতিনিধি বলরাম ভট্টাচার্য্য , বালি কেন্দ্র তৃণমূল ছাত্ৰ পরিষদের সভাপতি অর্ক ঘোষ , বিশিষ্ট শিক্ষক ও লেখক অর্ণব চ্যাটার্জী এবং বিশিষ্ট যুব নেতা প্রদীপ মুখার্জী।

No comments:
Post a Comment