নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: সোমবারের পর মঙ্গলবারও মালদা কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের বৈষ্ণবনগর এলাকার বীরনগর ও বালু গ্রাম এলাকায় গঙ্গার ভাঙন অব্যাহত। গত দু'দিনে গঙ্গাবক্ষে তলিয়ে গিয়েছে প্রায় ৯০ টির বেশি বাড়ী। এখনও পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন খোঁজখবর নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সোমবার ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে গঙ্গা নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন। একের পর এক বাড়ী গঙ্গাবক্ষে তলিয়ে গিয়েছে। ভিটেমাটি খুইয়ে গ্রামবাসীরা আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় আমবাগানে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের দলের কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তর্গত ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষকে ভাঙ্গন মোকাবিলার কাজে দ্রুত গতি আনার জন্য চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা বিজেপি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোন খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের উপরেও তারা একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ভিটেমাটি হীন হয়ে অসহায় মানুষকে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলতে হচ্ছে। ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। এদিকে এই ভাঙন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। যখন একদিকে ভাঙ্গন হচ্ছে সেই সময় কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের দপ্তরে ভাঙ্গনে বিলীন হওয়া ৬৪ টি পরিবারের হাতে নতুন করে পাট্টা তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেখানে শাসকদলের জনপ্রতিনিধি থেকে নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল দাবী করেন রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন নাকি ভাঙ্গন পীড়িতদের পাশে রয়েছেন।
মালদা জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, পরিবার গৃহহীন হয়েছে, মাত্র ৬৪ জনকে পাট্টা তুলে দিয়ে কি হবে। যারা গৃহহীন হয়েছে তাদের সবাইকে নতুন করে পাট্টা দিতে হবে ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এটাই বিজেপি দাবী করছে। তাঁর অভিযোগ যে এলাকায় ভাঙ্গণ হচ্ছে সেই এলাকায় ধুমধাম করে পাট্টার অনুষ্ঠান করছে জেলা প্রশাসন কিন্তু অনুষ্ঠানের পর একবারও ভাঙ্গণ কবলিত এলাকার মানুষদের সাথে দেখা করার প্রয়োজন বোধ করলেন না শাসক দলের নেতারা ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।

No comments:
Post a Comment