নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: মালদা জেলার হরিশচন্দ্রপুর পাওয়ার হাউসের সামনে বারোডাঙ্গা এলাকার এক বাড়ী থেকে টাকা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লো এক যুবক। সেই যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে এক পুড়িয়া ড্রাগস। অনুমান করা হচ্ছে মাদকাসক্ত এই যুবক নেশা করার জন্যই টাকা চুরি করতে গিয়েছিল। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার হাতে তাকে তুলে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম সাগর মন্ডল( ২২), বাড়ী হরিশ্চন্দ্রপুর থানার গড়গড়ি এলাকায়।
হরিশ্চন্দ্রপুর বারোডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা বেবি চক্রবর্তী, ব্যাংকের কিস্তি দেওয়ার জন্য নিজের ঘরে ফ্রিজের উপর ১০,০০০ টাকা রেখেছিলেন। ঘরের দরজা খোলা ছিল। অভিযোগ, সেই সময় ঘরে ঢুকে ওই টাকা চুরি করে যুবকটি। সেখান থেকে বেরোনোর সময় তাকে দেখে ফেলেন ওই মহিলা। ওই মহিলার চেঁচামেচি শুনে এলাকার লোকজন এসে অভিযুক্তকে ধরে ফেলে। অভিযুক্ত যুবক সাগর মন্ডলের পকেট থেকে ড্রাগস নেওয়ার বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং এক পুড়িয়া ড্রাগস্ উদ্ধার হয়। সেই ড্রাগ্স সে কোথা থেকে এনেছে বারবার জানতে চাওয়া হলেও কোন রকম উত্তর দেয় না সঠিকভাবে। ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর হাতে প্রহৃত হয় ওই যুবক। তারপর তাকে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এরকম বহু যুবক নেশাসক্ত হয়ে লোকের জিনিস চুরি করে বা নিজের বাড়ীর জিনিস বিক্রি করে নেশা করছে। এক্ষেত্রে যারা এই ড্রাগ্স বিক্রি করছে, প্রশাসনের উচিৎ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
গৌতম চক্রবর্তী নামে এক এলাকাবাসী বলেন, "ছেলেটি দোষী বলে সে পালানোর চেষ্টা করে। ওর পকেট থেকে নেশা করার কাগজ উদ্ধার হয়েছে। এইভাবে যুবসমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"
অভিযোগকারী বেবি চক্রবর্তী জানান, 'আমার দরজা খোলা ছিল আর টাকা ফ্রিজের উপরে রাখা ছিল, সেই সুযোগে টাকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আমি দেখতে পেয়ে চিৎকার করি। এখনও আমি আমার টাকা ফেরত পাইনি। আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং এরা কোথা থেকে এসব ড্রাগস্ পাচ্ছে তাও জানা হোক।"
এদিকে এই বিষয় নিয়ে তৃণমূলের যুব নেতা জিয়াউর রহমান বলেছেন, "এইসব নেশা আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের উচিৎ এইসব ড্রাগসের কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। যুব সমাজকে বাঁচাতে দরকার হলে আমরা আন্দোলনে নামবো।"
হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment