৪৫০ বোতল ফেনসিডিল সহ ৩ বাংলাদেশি পাচারকারী আটক বিএসএফ জওয়ানদের হাতে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 4 September 2020

৪৫০ বোতল ফেনসিডিল সহ ৩ বাংলাদেশি পাচারকারী আটক বিএসএফ জওয়ানদের হাতে


নিজস্ব সংবাদদাতাবিএসএফের গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত চৌকি শোভাপুর  তাঁবু পোস্ট , ৭৮তম ব্যাটালিয়ন, জেলা মালদহ সীমান্তবর্তী এলাকায় ডিউটি  দেওয়ার সময় সীমান্তরক্ষীরা ছোট শিবপুর গ্রামের চর এলাকায় একটি ঘেরাবন্ধী ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ০৩ চোরাকারবারি সমেত  ৪৫০ বোতল ফেনসিডিল ধরে, যার দাম ভারতীয় বাজারে ৭৬,৩৬০।

২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর, বিএসএফের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে  শোভাপুর তাঁবু পোস্ট বর্ডার ফাঁড়িতে মোতায়েন সীমান্ত রক্ষীরা ছোট শিবপুরের চর এলাকায় (যা জলে  ডুবে আছে) তাদের স্পিড বোট এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের  সাহায্যে ঘেরাবন্ধী  করে  এবং ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ সকাল সাড়ে ছয়টা   থেকে এই অঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে সকাল ০৭৩০ টার সময়  ফিনসেডিল সহ ০৩ বাংলাদেশী  চোরাচালানকারীকে  ধরতে  সফল হয় ।

গ্রেপ্তার হওয়া  চোরাচালানকারীদের  বিবরণ নিম্নলিখিত: -

ক)নাম - মেহবুব আলম -৩২ বছর , পিতা- নূরশাদ রহমান ,মাতা  -রাবিয়া বিবি গ্রাম -থোটাপাড়া (চকতারাপুর), ডাকঘর – সাহাপাড়া , থানা – শিবগঞ্জ , জেলা - চাঁপাইনবাবগঞ্জ (বাংলাদেশ)।

খ) রবিউল ইসলাম -১৮ বছর, পিতা- মোহাম্মদ নাসিদ আলী, মাতা -জয়নুর বেগম , গ্রাম -থোটাপাড়া (চকতারাপুর), ডাকঘর – সাহাপাড়া , থানা – শিবগঞ্জ , জেলা – চাঁপাইনবাবগঞ্জ , (বাংলাদেশ)।

গ) সবন  শেখ - ২০ বছর , পিতা- আইনুল হক , মাতা  -মেরিনা  বেগম , গ্রাম -থোটাপাড়া (চকরপুর), ডাকঘর – সাহাপাড়া , থানা – শিবগঞ্জ , জেলা – চাঁপাইনবাবগঞ্জ , (বাংলাদেশ)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পরা বাংলাদেশি পাচারকারীরা শিকার উক্তি করে নিম্নরূপ :-

i)   তারা ২৮ শে আগস্ট, ২০২০-এ সীমান্ত ফাঁড়ি, বাজিতপুর  এবং সীমান্ত ফাঁড়ি, ছতঘাতী  সংযোগস্থল  (৭৮ব্যাটালিয়ন)- এর চর ভূমি  অঞ্চল পেরিয়ে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেছিল ।

ii) তারা  এক ভারতীয় চোরাকারবারি সাহিদুল ওরফে গাব্বু শেখ ,পুত্র  ফৌজি মুন্সী, গ্রাম- শোভাপুর-এর ঘরে আশ্রয় নেয় ।

iii)  ০২.০৯.২০২০ এ তিন চোরাচালানকারী ভারতীয় চোরাচালানকারী সহিদুল শেখ ওরফে গাব্বু শেখ, পুত্র -ফৌজি মুন্সী, গ্রাম-শোভাপুর কাছ থেকে ফেন্সিড্রিলের খেপ পেয়েছিল এবং তা সোশোভাপুর গ্রাম হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেত ।

iv) আগে এই ফেন্সিড্রিলের  খেপটি এক বাংলাদেশি চোরাচালানকারীর হাতে হস্তান্তর করা হতো যার নাম  জসিম শেখ নিবাসী গ্রাম-মনোহরপুর, থানা-শিবগঞ্জ ।

v) এই ক্ষেপটি হস্তান্তর করার পরে, তাদের প্রত্যেকে বাংলাদেশি চোরাচালানের কাছ থেকে ৩০০০ বাংলাদেশি টাকা পেত কিন্তু বিএসএফের সাহসী জওয়ানরা  চোরাচালানকারীদের অভিযান  ব্যর্থ করে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরোনোর আগেই তাদের গ্রেপ্তার করে ।

আটককৃত ৪৫০ বোতল ফেন্সিড্রিল সহ তিনজন বাংলাদেশী চোরাচালানকারীকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য এফআইআর-এর আওতায় শমসেরগঞ্জ থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল যাতে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা যায় এবং ফেন্সিড্রিলএর চোরাচালানের পুরো নেটওয়ার্ক ধরা যায়।

বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের কারণে, গঙ্গা নদীর জলের স্তর এবং প্রসারণ যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে নদীতে জলের প্রবাহ খুব দ্রুত তাই এই অঞ্চলের পাচারকারীরা পশু চোরাচালান না করতে পারায় দীপথে স্রোতের সুযোগ নিয়ে ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে ফেনসিডিল, তামাক এবং বিড়ি পাতা ইত্যাদির মতো নিষিদ্ধ পদার্থ বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করে।

বাহিনীর  কমান্ডিং অফিসার শ্রী  বিজয় কুমার সিংহ তার জওয়ানদের কৃতিত্বের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেছেন  এবং বলেছেন যে, তিনজন বাংলাদেশী ফেনসিডিল পাচারকারীকে সারা রাত জঙ্গলে ঘিরে রেখে তাদের নদীর তীরে পৌঁছাতে না দেওয়া এবং সকালে ঠিক সময়ে গ্রেপ্তার করে  জওয়ানরা তাদের কঠোর পরিশ্রম দেখিয়েছে এবং কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পরিচয় দেয়। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তাদের বাহিনীর দায়িত্বের ক্ষেত্রে চোরাচালানকারীদের উদ্দেশ্যগুলি কখনই সফল হতে দেবে না । তিনি আরও বলেছেন যে, বাংলাদেশ সীমান্তে , ট্রান্স  বর্ডার  অপরাধ  রোধ করা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের দায়িত্ব এবং তিনি আরও বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কমান্ডারকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad