লকডাউনে ফের জেগে উঠল বলরাম বাবুর ম্লান হয়ে যাওয়া প্রতিভা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 5 August 2020

লকডাউনে ফের জেগে উঠল বলরাম বাবুর ম্লান হয়ে যাওয়া প্রতিভা





নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর দিনাজপুর:  শিল্পীর শিল্পত্ব কোথায় লুকিয়ে থাকে তা নিজেও জানে না শিল্পী। করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় লকডাউন চলছিল, তখন নিজের হারিয়ে যাওয়া প্রতিভাকে জাগিয়ে তুললেন  শিল্পী বলরাম সাহা। তার এই প্রতিভা দেখতে শিল্পীর বাড়ী মানুষের ঢল নেমেছে এক প্রকার।



উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ  পুরসভার শ্রীকলোনীর বাসিন্দা বলরাম সাহা বিজ্ঞাপনের ব্যবসায় যুক্ত। তবে ছোট বেলাটা কেটেছিল মৃৎশিল্পীদের কাছে কাজ শিখে। স্কুলের কর্মশিক্ষা পরীক্ষায় বলরাম বাবুর তৈরী বিভিন্ন মডেল দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন শিক্ষকেরা। এরপর দেব-দেবীর মূর্তি, অন্দর সজ্জার বিভিন্ন সামগ্রী  তৈরী করে বিশিষ্ট মৃৎশিল্পীর মর্যাদা পেয়েছিলেন। হাতের আঁকাও ছিল খুব সুন্দর। পড়াশোনা শেষের পর সংসারের চাপ সামলাতে  কালিয়াগঞ্জের একটি আর্টের দোকানে কাজে যোগ দেন। সেখানেই বিভিন্ন কোম্পানীর দেওয়াল লিখন, ফেষ্টুন বানাতেন। আর্টের দোকানে থাকাকালীন বিভিন্ন বিজ্ঞাপন কোম্পানীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই আর্টের কাজ ছেড়ে দিয়ে হোডিং-এর ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পড়েন। হোডিং- এর ব্যবসায় আসার পর ব্যবসা  উত্তরোত্তর  বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রচারের যুগে বিভিন্ন নামী দামী কোম্পানীর হোডিং তৈরির কাজ পেয়েছিলেন। হোডিং লেখার জন্য কালিয়াগঞ্জে একাধিক যুবকদের তিনি কাজে যুক্ত করেছিলেন। ভালোই চলছিল সংসার জীবন। তবে করোনা আবহ বদলে দেয় জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। মন্দা নেমে আসে ব্যবসাতে।  বিশ্বজুড়ে লকডাউনের প্রভাবে কোম্পানীগুলি  বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যে সমস্ত কোম্পানী বিজ্ঞাপনের বরাত  দিয়েছিল  তারাও টাকা দিতে পারছেন না। মার্চ মাসে লকডাউন শুরু হতেই তার সমস্ত কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তার সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু কর্মি, তারাও আজ কর্মহীন।



কর্মজীবনে দিনরাত তাকে কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হত। লকডাউন পিরিয়ডে কতদিন কাজ না করে ঘরে বসে সময় কাটানো যায়। তাই ঘরে বসে সময় নষ্ট না করে দীর্ঘ ৩০ বছর আগে যে কাজটি তিনি শিখেছিলেন সেই কাজটি তার কতখানি আয়ত্ত্বে আছে তা বুঝতেই মাটি কিনে এনে শুরু হয়  মাটির তৈরী মডেল তৈরী কাজ। প্রথমে মাটির মুখ তৈরী করেন। এরপর নেতাজী, লাফিং বুদ্ধ, গনেশ সহ একাধিক মডেল বানিয়ে ফেলেছেন। শুধু মাটির নয়, সিমেন্টও বেশ কিছু মডেল বানিয়েছেন বলরাম বাবু। বলরাম বাবুর ইচ্ছা আগামীতে তার বাড়ীতেই একটি মিউজিয়াম তৈরি করবেন। সেখানেই সাজিয়ে রাখবেন তার হাতে তৈরি মডেল গুলি। এই কাজ দেখে তার স্ত্রীসহ পাড়া প্রতিবেশীরাও এক প্রকার অবাক। বলরাম বাবুর স্ত্রী পিঙ্কি পাল সাহা জানান, তার ২০ বছরের সংসারে কোন দিন তার স্বামীকে এই কাজ করতে দেখেননি। লকডাউনে বাড়ীতে বসে ছিলেন। সেই সময় মাটি কিনে এনে বাড়ীতে বসেই নানান ধরনের মডেল বানাচ্ছে। তাকে কাজের উৎসাহতা দিচ্ছেন যেমন, তেমন যতটুকু সাহায্য করতে পারেন, ততটুকু সাহায্য করেন সংসারের কাজ সেরে। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad