চিত্তরঞ্জন দেবভূতি, দার্জিলিং: দিনেরাতে একটানা বৃষ্টির ফলে,পাহাড় পর্বত থেকে তীব্র বেগে জলধারা সমগ্র উত্তর বঙ্গের নিচু এলাকা সমূহ ডুবাতে চলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে৷
একদিকে করোনার আবহে মৃত্যু মিছিল লম্বা হচ্ছে৷ ডাক্তার, নার্স, সাফাই কর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকদের নিরলস প্রচেষ্টায় হাজার হাজার করোনা সংক্রমণ ঘরে ফিরে সামাজিক তাচ্ছিল্য, বয়কটের মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অপর দিকে বন্যা জল খালে বিলে, কৃষি জমিতে, ঘরের মেঝেতে, উঠোনে, কোথায় যাবেন বিপন্ন মানুষ?এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷
কেন্দ্র আর রাজ্য সরকার সাধ্য মতো ত্রাণ,পরিষেবা দেওয়া চালু রেখেছেন তথাপি সমস্যার তুলনায় যেন যথেষ্ট নয়৷ কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক ভাবে বঞ্চনার অভিযোগ আগেও ছিল, এখনও আছে৷ পাওনা টাকা কেন্দ্র কেন রাজ্য সরকারকে সবটা দেবেন না? এই প্রশ্ন সব জায়গায় কমবেশি সমালোচনা হচ্ছে৷ অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত রাজ্য সরকারকে উদার মনে কেন্দ্রকে আর্থিক সহযোগিতা এই চরম সঙ্কটের সময়ে করা দরকার বলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাষ্যকারগণ মনে করেন৷
তিস্তা,মহানন্দা,তোর্ষা, রায়ডাক, টাঙ্গন, কুলীকশ্রীমতী, জলঢাকা, হিলির যমুনা, নেপাল সীমান্তে মেচী নদী সবখানে প্রচুর জলরাশি নিচু এলাকার শহর নগর জনপদের নিচু এলাকা জলমগ্ন৷ যার বিস্তারিত খবর ইতিমধ্যে টি.ভি, পেপার, লোকাল নিউজ চ্যানেল সমূহের মাধ্যমে অনেকে জানেন৷
কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার,দার্জিলিং, উত্তরও দক্ষিণ দিনাজপুর তো বটেই মালদহ , মুর্শিদাবাদসহ দক্ষিণ বঙ্গের জেলা গুলির নিচু এলাকা সমূহ জলমগ্ন৷
যে কোন সময় বড় রকমের বিপদ আসতে পারে ধরে নিয়ে উদ্ধার ত্রাণ কার্যের সমস্ত রকম প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও সামনে যেন সমস্যার পাহাড়৷ আর এই সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসতে কেন্দ্রীয় সরকারকে পাশে দাঁড়ানো খুব জরুরী৷ না হলে বাংলার প্রতি অর্থনৈতিক বঞ্চনার বিষয়টি জনগণ ভালো ভাবে নেবেন না বলে অনেকের অভিমত৷

No comments:
Post a Comment