নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: করোনা আবহে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি পর্যটন কেন্দ্রই বন্ধ হয়ে রয়েছে। লকডাউন শিথিল হওয়ার সাথে কিছু কিছু পর্যটন কেন্দ্র খুলে দিলেও করোনার আতঙ্কে পর্যটক শূন্য হয়ে রয়েছে কেন্দ্রগুলো। নদিয়া জেলার ফুলিয়া একটি অন্যতম পর্যটন স্থান হিসাবে মানুষের হৃদয়ে রয়েছে। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করা মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝার ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে মাঘ মাসে আবির্ভাব এই ফুলিয়ার কৃত্তিবাস গ্রামে । কবির নাম অনুসারে এই গ্রামের নাম কৃত্তিবাস। কবি যে বটবৃক্ষের ছায়ায় বসে বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন রামায়ণ, তা এখনও স্মৃতিচারণ করে। এই গ্রামে রয়েছে কৃত্তিবাস ওঝার নামে ২টি স্কুল ও কৃত্তিবাস লাইব্রেরী। কৃত্তিবাস ওঝা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র রয়েছে এই লাইব্রেরীতে।
করোনার জেরে গত ২২ শে মার্চ থেকেই বন্ধ রয়েছে লাইব্রেরী। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কবি কৃত্তিবাস ওঝার জন্ম ভিটে রয়েছে দেশ-বিদেশের মানুষের মনের ভিতরে। তাই দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক আসেন এই মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝার জন্মভিটে পরিদর্শন করতে। পর্যটকরা আসলেও তাদের হতাশা নিয়েই ফিরে যেতে হয়। কারণ কৃত্তিবাস ওঝাকে কেন্দ্র করে যে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল, উন্নত পরিকাঠামো না থাকায় বা সঠিক সংরক্ষণ হয়নি, এমনটাই অভিযোগ করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ পূর্ণিমাতে কবি কৃত্তিবাস ওঝার জন্ম লগ্ন পালন করা হয়। সেই সময়ই কিছু সরকারি অনুদান দেওয়া হয় তাতেই কৃত্তিবাস ওঝার একটি ছোট মন্দির, একটি স্মৃতিস্তম্ভ ও কৃত্তিবাস কূপ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রং করা হয়। এই অনুষ্ঠানে আসেন বিধায়ক থেকে মন্ত্রী; তাঁরা বলেন, এই কৃত্তিবাস ওঝার স্মৃতির স্থানকে নতুন করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করা হবে। কিন্তু তা কেবল তাদের মুখের বুলি। আজ পর্যন্ত কিছুই উন্নয়ন এখানে হল না। তবে সেই উন্নয়ন অধরা থাকলেও মানুষের অন্তরে মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝার স্মৃতিচারণ রয়ে যাবেন চিরকাল। রয়ে যাবে, নদীয়ার ফুলিয়ার নাম। কিন্তু ভবিষ্যতে কৃত্তিবাস ওঝার এই স্মৃতি গুলো কিভাবে সংরক্ষণ থাকবে? আগামী প্রজন্ম কি দেখতে পাবে এসব? এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে।

No comments:
Post a Comment