গ্রামবাসীদের পাতা জালে ধরা পড়ল নীলগাই - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 5 August 2020

গ্রামবাসীদের পাতা জালে ধরা পড়ল নীলগাই


নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদাবেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় সবজি, ফসলের জমি নষ্ট করছিল একটি নীলগাই। অবশেষে গ্রামবাসীদের তৎপরতায় ধরা পড়লো সেই নীলগাইটি। বুধবার সকালে জাল বিছিয়ে ওই নীলগাইটিকে ধরার ব্যবস্থা করেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার থানার কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের মানিকপুর গ্রামে। এই ঘটনার খবর পেয়ে ওই এলাকায় পৌঁছায় রাজ্য বন বিভাগের মালদা রেঞ্জের অফিসার, কর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্টার পর ওই নীলগাই টিকে অবশেষে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে আনেন বন দপ্তরের কর্মীরা। ওই নীলগাইটিকে আপাতত প্রাথমিক চিকিৎসার পর আদিনা ডিয়ার ফরেস্টে রাখার কথা জানিয়েছে বন দপ্তর।

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে মানিকপুর , কাজিগ্রাম এবং হলদিবাড়ি গ্রামের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল একটি নীলগাই। এমনকি ওইসব গ্রামের ফসলের জমি নষ্ট করছিল এই বণ্য প্রাণীটি । অনেক চেষ্টা করেও নীলগাইটিকে বাগে আনতে পারেননি গ্রামবাসীরা। এরপর মানিকপুর গ্রামের যেখানে ওই নীলগাইটিকে মাঝেমধ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল, সেই এলাকার বেশ কিছু অংশে জাল দিয়ে ঘিরে রাখেন গ্রামবাসীরা। মঙ্গলবার রাতেই সেই জালে জড়িয়ে পড়ে নীলগাইটি। বুধবার সকালে গ্রামবাসীরা দেখতে পান জালে জড়িয়ে  ছটফট করছে ওই বন্য প্রাণীটি। এরপর খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরকে। বন দপ্তরের অফিসার, কর্মীরা পরে নীলগাইটিকে  উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

মানিকপুর গ্রামের বাসিন্দা নেজামুল শেখ, আরশাদ শেখ বলেন, আমাদের বিভিন্ন ধরনের সবজি ও জমির ফসল নষ্ট করে দিচ্ছিল নীলগাইটি। দিনের বেলায় দেখা না গেলেও, রাতে মূলত সবজি ও ফসলের জমিতে ঢুকে সেগুলো নষ্ট করছিল। এ নিয়ে এলাকার চাষিরা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তাই পরিকল্পনা করেই নীলগাইটি ধরার জন্য জাল বিছানো হয়। আর সেই জালে ওই বন্য প্রাণীটি ধরা পড়ে। 

বন দপ্তরের মালদার ডেপুটি রেঞ্জ অফিসার সমর সাঠিয়ার জানিয়েছেন, 'মানিকপুর গ্রাম থেকে একটি নীলগাই উদ্ধার হয়েছে। সেটিকে আপাতত আদিনা ফরেস্টে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেহেতু বর্ষার মরশুমে বিভিন্ন নদীর জল বেড়েছে। অন্য কোথাও বন্যার কারণেই হয়তো নদীপথে নীলগাইটি ভেসে মালদায় চলে এসেছে। কারণ , এই ধরনের প্রাণী মালদার কোন জঙ্গলে বসবাস রয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।  আদিনা ডিয়ার ফাস্ট ফরেস্টে ওই নীলগাইটিকে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।'

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad