লাগামগীন ভর্তির ফি, লকডাউনে কর্মহীন অভিভাবকদের মাথায় হাত - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 2 August 2020

লাগামগীন ভর্তির ফি, লকডাউনে কর্মহীন অভিভাবকদের মাথায় হাত



নিজস্ব সংবাদদাতা:  লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পরেছেন বহু পরিবার প্রধান। কিন্তু সন্তান পাস করেছে, ও যে পড়তে চায়! তবে ভর্তি ফি বারোশো টাকা , তার ওপর বই, খাতা-পত্র, গৃহশিক্ষকের মাইনে! তাই অনেক অভিভাবকই  সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন "এই পর্যন্তই থাক একটা পাশ তো করেছে!"  স্কুলগুলির দেওয়ালে কান পাতলেই শোনা যায় অসহায় অভিভাবকদের আর্তনাদ। সরকার কন্যাশ্রীর সুবিধা দিয়ে স্কুল ছুট সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করলেও, হয়তো তা ব্যর্থ হতে বসেছে বিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তে।


অভিভাবকগন  বলেন, "আমরাও জানি বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শিক্ষক শিক্ষিকা বা শিক্ষা কর্মীর মাইনে, নতুন শ্রেণিকক্ষ, প্রাচীর নির্মাণ, দেওয়াল রং, বেঞ্চ বানানো , আধুনিক কম্পিউটার সম্বলিত স্মার্ট ক্লাসের সুবিধা দেওয়া, সরস্বতী পুজো বা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নানান কারণে সরকার নির্ধারিত ২৪০ টাকা বেড়ে ১০০০-১৫০০ হয়ে যায়! কিন্তু সত্যিই কি মহামারীর সময় এক বছর উন্নয়ন বন্ধ করে  ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়না? দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বাড়ীতে বসে সন্তান মনে করে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষাদানের খানিকটা প্রচেষ্টা আশা করা যায় না সরকারি বেতনভোগী জাতির মেরুদন্ড শিক্ষক শিক্ষিকা কাছ থেকে?"

 প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকা পরিচালন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিভাবকদের চাপে বাড়তি টাকা না পেলে হয়তো বন্ধ হয়ে যেতে পারে অতিরিক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার মাইনে! তাই নিজেদের চাকরি না পাওয়া ঘরের ছেলে মেয়েদের ন্যূনতম পারিশ্রমিকের কর্মচ্যুত করতে চান না অভিভাবকরা।

নদীয়ার শান্তিপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ভর্তির ক্ষেত্রে, সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা। প্রশাসনিক এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে এইরকমই শিক্ষার অধিকার ভুলে, অভিবাবকবৃন্দর হয়ে শান্তিপুর নাগরিক কমিটি জমা করছেন শিক্ষার প্রার্থনা পত্র। তবে সমস্ত রকমের সমস্যায় জর্জরিত থাকা সত্ত্বেও তন্তুবায় উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো গত বছরের ছয়শ টাকা ফি কমিয়ে চারশো টাকা নেওয়া, ওরিয়েন্টাল অ্যাক্যাডেমি ২০০ টাকা নিয়ে ভর্তি করার করার মতো বিরল ঘটনাও চোখে পড়েছে ,তবে দু-একটি । এ বিষয়ে সমস্ত বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে গতকাল শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয় বিকাল তিনটের সময় এক আলোচনা সভা হয়। তাতে বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যের সাফ কথা, " মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমার বিধানসভার কোন ছাত্র-ছাত্রী অর্থাভাবে ভর্তি হতে পারবে না, এমন হতে দেব না। আপাতত প্রত্যেক বিদ্যালয়ে ধার্য ফির ১০% ছাড় দেওয়া হবে সকলের জন্য। এরপরও যাদের অসুবিধা হবে বিদ্যালয় পরিচালন কমিটি অথবা আমার কাছে আবেদন করলে, তা খতিয়ে দেখে পুরোটাই ছাড় দেওয়া হবে ।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad