নিজস্ব সংবাদদাতা : একে তো করোনার আতঙ্ক আমাদের সকলকে ঘিরে রেখেছে। এরই মাঝে অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ ঘিরে ফের ঝাড়গ্রামে বাঘের আতঙ্ক ছড়ায়। অবশেষে বাঘের আতঙ্ক দূর করলেন ঝাড়গ্রামের ডিএফও বসবরাজ হোলেয়াচি। তিনি এদিন সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, "অহেতুক আতঙ্কের কিছু নেই। ওগুলো নেকড়ের পায়ের ছাপ। ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে অনেক নেকড়ে আছে। প্রায়ই তারা রাতের দিকে জঙ্গল ও রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। বৃষ্টির জন্য মাটি নরম থাকায় পায়ের ছাপ গুলি পড়েছিল।"
অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ দেখে এই আতঙ্ক ছড়ায় ঝাড়গ্রাম শহরের উপকন্ঠে ডিয়ার পার্কের জঙ্গলে। বুধবার ঝাড়গ্রামের নতুন পুলিশ লাইনের পিছনের জঙ্গল রাস্তায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন বাসিন্দা একটি নালার ধারে নরম কাদা মাটিতে অনেকগুলি পায়ের ছাপ দেখতে পান। ডিয়ার পার্ক লাগোয়া কৃষ্ণনগর মৌজার জঙ্গলরাস্তার নরম মাটিতেও এ রকম আরও পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। ওই পায়ের ছাপগুলি বাঘের বলে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে বনকর্মীরা গিয়ে পায়ের ছাপগুলি পরীক্ষা করেন। পায়ের ছাপ মেল করে পাঠানো হয় কলকাতার বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের কাছে। পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দেন, সেগুলি নেকড়ের পায়ের ছাপ।
তবে ঝাড়গ্রামে বাঘের আতঙ্ক অস্বাভাবিক কিছুই নয় । ২০১৮ সালে লালগড়ের জঙ্গলে প্রথমে বাঘের পায়ের ছাপের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল । তারপরে অবশ্য লালগড়ের জঙ্গলে বাঘ দেখা যায় । এই বছরই বেলপাহাড়ি ব্লকের বিনপুর থানার অন্তর্গত মালাবতী জঙ্গলে ফের বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে । বাঘ ধরার জন্য সুন্দরবন থেকে বাঘ বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন। মালাবতীর জঙ্গলে বসানো হয়েছিল দুটি খাঁচা। অবশেষে বন দপ্তর দাবী করে অজানা জন্তুটি বাঘ হয়ে থাকলে ঝাড়খন্ড রাজ্যে চলে গিয়েছে ।

No comments:
Post a Comment