নিজস্ব সংবাদদাতা: রাত পোহালেই রাখি বন্ধন উৎসব। আর ভাতৃত্বের বন্ধন মজবুত করে তুলতে কচুরিপানা দিয়ে রাখি তৈরি করলেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। কো অপারেটিভ সোসাইটির মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা এই সর্বপ্রথম বঙ্গে কচুরিপানা ব্যবহার করে রাখি তৈরি করলেন। আগামী রাখি পূর্ণিমার উদ্দেশ্যে এই সমস্ত রাখি হাওড়ার একটি সংস্থাকে তারা বিক্রি করেন। লকডাউনের বাজারে রাখি বেশি বিক্রি হবে না ওই মহিলা শিল্পীদের। এই কথা ভেবেই উৎপাদনের পরিমাণ কম করেছেন তাঁরা। এই রাখি তাঁরা নদিয়ার বাজার গুলিতেও বাজারজাত করবেন। যারা অর্ডার দেবেন তাদের চাহিদা মতো এই কচুরিপানার রাখি তাদের হাতে তুলে দেবেন। ৫ টাকা, দশ টাকা ও কুড়ি টাকা এই ধরনের রাখি পাওয়া যাবে বলে জানান তাঁরা।
অন্যদিকে মেলা, খেলা, উৎসব, অনুষ্ঠান সব কিছুরই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই লকডাউন। তা থেকে রেহাই নেই রাখি বন্ধন উৎসবেরও। মাঝে কয়েকটা ঘণ্টার ব্যাপার, তার পরেই দেশ জুড়ে পালিত হওয়ার কথা এই উৎসব। কিন্তু উৎসব যে কেমন পালিত হবে-- তা এই উৎসবের প্রধান উপকরণ রাখির উৎপাদন দেখেই বোঝা যায়। সাধারণত সারা বছর ধরেই রাখি তৈরি হয়ে গুদামে পড়ে থাকে। উৎসব আসার এক থেকে দেড় মাস আগে থেকে সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু এবার সেই রাখি সরবরাহে ভাটা পড়েছে বলে জানান নদিয়া শহরের রাখি ব্যবসায়ীরা। নদিয়ার রানাঘাট শহরে কয়েক হাজার মানুষ এই রাখি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এরা সারা বছর ধরেই রাখি তৈরি করে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
এই শহরের এক রাখি কারখানার মালিক জানান, তাঁর কারখানায় বেশ কয়েকজন স্থায়ী কর্মচারী আছেন, যাদের কাজ রাখি শিল্পীদের রাখির উপকরণ সরবরাহ করা এবং তৈরির পর শিল্পীরা রাখি দিতে এলে তা বুঝে নেওয়া। সাড়ে তিন হাজার এই রকম শিল্পী আছেন, যারা এই কারখানা থেকে উপকরণ নিয়ে গিয়ে বাড়ীতে বসে রাখি তৈরি করেন। তাদের কাজের উপর মজুরি দেওয়া হয়। কিন্তু এ বছর লকডাউনের কারনে বাইরে থেকে কাজ সে ভাবে আসেনি। তাই রাখি তৈরি করাও অনেকটাই কমে গেছে। যেটুকু রাখি সরবরাহ করা হয়েছে, তারও যদি পয়সা ফিরে না আসে, তাহলে শিল্পীদের মজুরি মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার রাখি শিল্পী সহ এই শিল্পের সাথে যুক্ত মানুষেরা।

No comments:
Post a Comment