নিজস্ব প্রতিনিধি: চারিদিক নিস্তব্ধ, সকলেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠিক সেই সময়ই ঘটল বিপত্তি। ভয়াবহ অগ্নি গ্রাস করল কয়েকশো দোকান। সোমবার গভীর রাতে বারুইপুর থানার একেবারে সামনে কাছারি বাজারে কাপড় পট্টিতে আগুন লাগে। ভয়াবহ আগুনে প্রায় শতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত দু’টো নাগাদ আগুন লাগে কাছারি বাজারের কাপড় পট্টিতে। এলাকার মানুষ ওই বাজারের কাপড় পট্টি থেকে প্রথমে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পায়, মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন সম্পূর্ন বাজার ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় দমকলে, কিন্তু দমকল আসতে কিছুটা দেরি হয়।প্রায় ১ ঘন্টা পর দমকলের দু'টো ইঞ্জিন এলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক ইঞ্জিন এসে আগুন নেভানোর কাজে তৎপরতার সাথে হাত লাগায়। বাজার এলাকা ঘন জনবসতিপূর্ণ থাকায় প্রথমে আগুন নেভাতে সমস্যায় পড়েন দমকলকর্মীরা। কারণ সেখানে কোনও শ্যালো পাম্প নেই। এরপর
বারুইপুর থানার শ্যালো পাম্প থেকে জল তুলে আগুন নেভাতে থাকেন তারা। এলাকার মানুষও তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রায় ৬ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেওে ভিতরে ভিতরে আগুন জ্বলতে থাকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কয়েক’শো কোটি টাকা। চারিদিকে শুধু ব্যবসায়ীদের হাহাকার; আগে ভাগে খবর পেলেও শত চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি দোকানের জিনিসপত্র। আবার অনেকেই খবর পেয়েছেন সব পুড়ে শেষ হয়ে যাওয়ার পর। একে তো লকডাউনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার উপর এই বিধ্বংসি আগুনের গ্রাসে শেষ সম্বলটুকুও হারাতে বসেছেন তারা।
তবে কি করে এই ভয়ানক অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে প্রাথমিক অনুমান দমকলকর্মীদের। আজ সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় বিধায়ক তথা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি।

No comments:
Post a Comment