নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডিসেম্বরের শেষে চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া অদৃশ্য ভাইরাস যে এতটা ভয়ানক রূপ দেখাবে, তা হয়তো বিশ্ববাসী স্বপ্নেও ভাবেনি। শুরু থেকে সোশ্যাল সাইটের ওয়াল ভরে গিয়েছিল করোনা সম্পর্কিত বিভিন্ন মজার মজার জোকসে। কিন্তু আজ যেন করোনা আমাদের নিয়ে মজা করছে, হাসছে আমাদের দেখে, রীতিমতো আমাদের মাথায় চড়ে তাণ্ডব লীলা দেখাচ্ছে সে। আমাদের পুরো জীবনটাই যেন বদলে দিয়েছে এই মহামারী। বন্ধু-বান্ধব, আপনজন ছেড়ে আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়েছে ফেস মাস্ক, স্যানিটাইজার, ফেস শিল্ড এসব। আগে সকলে বলতেন, দেখা হলে কাছাকাছি থাকলে আমরা ভালো থাকব; শরীর-মন সুস্থ থাকবে। কিন্তু সেই সমীকরণটাও পাল্টে দিয়েছে করোনা। আজ দূরে দূরে থাকলেই হয়তো আমরা সকলে ভালো থাকতে পারব।
আর তাই তো বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সরকার পক্ষ থেকেও বার বার সচেতনতার পাঠ পড়ানো হচ্ছে; মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে রাজ্য সরকারের দিক থেকে। এত সবের পরেও কিছু মানুষ এখনও কিন্তু নিজেদের পুরোনো ধারা বজায় রেখেছেন। স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন করেই তারা ঘুরে বেরাচ্ছেন বাইরে। এদিকে দিন দিন রাজ্যের অন্য জেলার পাশাপাশি হাওড়াতেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তা সত্ত্বে সেখানেও এমন অসচেতনতার চিত্র ফুটে উঠল। আর তাই তো আজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হলেন হাওড়ার জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি এব্রাহিম গোরা।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হাওড়ার জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি এব্রাহিম গোরার নেতৃত্বে আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পথচলতি মানুষদের সচেতন করা হয়। তিনি নিজে সেইসব উদাসীন মানুষ মুখে মাস্ক পড়িয়ে দিলেন, যারা মাস্ক ছাড়াই ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসেছেন। মাস্ক পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের সচেতন করে তিনি একথাও বললেন, 'কেউ মাস্ক ছাড়া বাড়ীর বাইরে বেরোবেন না। মাস্ক ছাড়া কেউ বাড়ীর বাইরে বেরোলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'



No comments:
Post a Comment