ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক হাওড়ার সলপ এলাকায় - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 30 August 2020

ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক হাওড়ার সলপ এলাকায়


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়াহাওড়ার সলপ এলাকায় ক্রমবর্ধমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় খুবই উদ্বিগ্ন শহরবাসী। সন্ধ্যের পরে একদম নির্জন হয়ে পড়ে  শহরের নির্জন রাস্তাঘাট। নেই কোন পুলিশি নজরদারি। মোবাইল, সোনার হার, ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নিত্যদিন চম্পট দিচ্ছে দুষ্কৃতিরা। পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীন ব্যাংকের সলপ শাখা থেকে একটি মোবাইল শোরুমের মাঝের এই রাস্তাটাই হয়ে উঠেছে  ছিনতাইকারীদের স্বর্গ রাজ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এই জায়গাটা রাতে বেলায় একদম অন্ধকার। রাস্তায় কোন আলোর ব্যবস্থা নেই। মেন রোডে পুলিশ থাকলেও তারা এদিকটায় আসে না। তাই খুব সহজেই রাতের অন্ধকারে ও নির্জনতাকে কাজে লাগিয়ে চলছে অবাধেই এই দুষ্কৃতিদের কাজ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ডোমজুড়ের সলপ উত্তর পাড়ার বাসিন্দা অর্পিতা সর্দা‌র গত বৃহস্পতিবার রাতে বাইকে চেপে তার স্বামীর সঙ্গে নার্সিংহোম থেকে রাতে বাড়ী ফিরছিলেন। মেন রোড থেকেই একটি বাইক তাদের ফলো করে। তাদের বাইক যখন ওইঅন্ধকার জায়গাতে এসে পৌঁছায় তখন দুষ্কৃতিরা তাদের রাস্তা আটকে দাঁড়ায়। স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই গলার চপার ধরে তাদের থেকে টাকা-পয়সা, সোনা-দানা দাবী করে। হঠাৎ করে সামনের বাড়ীর কেউ ঘটনার আন্দাজ পেয়ে বাড়ীর গেট ও দুটো আলো জ্বালিয়ে দেয়। এরপর তারা ওই মহিলার কানের সোনার দুল টান মেরে ছিঁড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এমনকি মহিলার মোবাইলও ছিনিয়ে নিয়ে পালায় দুই দুষ্কৃতি। 

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই মহিলা অর্পিতা সর্দার বলেন, তার সাথে এই ঘটনা ঘটার দুদিন পরেও কাউকে ধরতে পারেনি পুলিশ। তার কান ওই আচমকা টানে দুই টুকরো হয়ে যায়। তিনি ব্যাগে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রেসক্রিপশন থাকায় দুষ্কৃতিদের অনুরোধ করে সেটা না নেওয়ার জন্য। তখন ওই মহিলার চুড়ি ধরে টানাটানি করে। পরে দু কানের সোনার দুল টেনে ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় ওই মহিলার কানের নিচের অংশ কেটে যায়। রক্ত বের হতে থাকে। 

তার শ্বাশুড়ি নার্সিংহোমে ভর্তি। এই ঘটনার জন্য দুদিন যেতে পারেন নি। কিন্তু তাকে যেতেই হবে। তিনি আরও বলেন এই ঘটনার পরে ওই রাস্তা দিয়ে তাকে ফিরতে হবে তাই স্বভাবতই তিনি খুব আতঙ্কিত রয়েছেন।  

ডোমজুড় থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন মোড়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পাশাপাশি ওই এলাকার অন্য স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযোগ করেন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় এই ধরণের ছিনতাই অনেকবার হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় পুলিশের কোন ভূমিকা তারা দেখতে পান নি। এভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সলপ এলাকায় যথেষ্ট আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad