খবর ছড়িয়ে পড়তেই খুশির হাওয়া জেলার শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী ও ছাত্রছাত্রী মহলে। আদতে মিসা দেবী শিলিগুড়ির বাসিন্দা। ২০০৮সালে দুর্গম টোটোপাড়ার ওই একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয়ে যখন কাজে যোগ দেন, সে বছর ওই স্কুল থেকে মাত্র এক জন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছিল, যে হার এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে আশি শতাংশেরও বেশি। বাম আমলে পিছিয়ে পড়া ওই আদিম জনজাতির পড়ুয়াদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যে টোটোপাড়ায় একটি স্কুল গড়ে তোলা হলেও, দুরহ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে শিক্ষকদের এক শ্রেণির অনিহায়, স্কুলের পরিকাঠামো তেমন ভাবে উন্নত হতে পারেনি। কিন্তু মিসা ঘোষাল ওই স্কুলে যোগ দেওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে ডালপালা মেলতে শুরু করে ওই স্কুলটি। তিনি টোটো জনজাতির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখি করে বোঝাতে সক্ষম হন যে, লেখাপড়ার কোন বিকল্প নেই আজকের পৃথিবীতে।
টোটোপাড়াকে মন থেকে ভালোবেসে এক সময় মাদারিহাটের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান মিসা ঘোষাল।কারণ শিলিগুড়ি থেকে টোটোপাড়ায় যাতায়াত করে স্কুল করাটা এক অসম্ভব কল্পনা মাত্র। কারণ বর্ষার তিন মাসের বেশির ভাগ সময়েই সড়ক যোগাযোগে টোটোপাড়া বিছিন্ন হয়ে পড়ে তিন পাহাড়ি নদী তিতি, বাঙরি ও হাউরি নদীর জলোচ্ছ্বাসে। রীতিমতো প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে টোটোদের দেশে পৌঁছাতে গিয়ে এক অসাধ্যকে সাধন করেছেন ওই দিদিমনি। যারই ফলস্বরূপ ওই সেরা শিক্ষকের মর্যাদা পেতে চলেছেন মিসা ঘোষাল। প্রধানশিক্ষকা মিসা ঘোষাল টোটো সংষ্কৃতি নিয়ে গবেষণা করছেন, এছাড়া টোটোদের নিয়ে তার পুস্তক টোটো কিশোরী কন্যা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

No comments:
Post a Comment