নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিসের সামনে বহুমুখী স্বাস্থ্য কর্মীদের অনশন ১৬দিনে পড়ল। ইতিমধ্যেই অনশনরত চার স্বাস্থ্য কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের দুজনের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। আলিপুরদুয়ারে ফ্রন্ট লাইনে কাজ করা করোনা যোদ্ধারা আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় এভাবে আমরন অনশন শুরু করায় বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ১০ আগষ্ট আলিপুরদুয়ারের বহুমুখী পুরুষ স্বাস্থ্য কর্মীরা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিসের সামনে অনশন শুরু করেন। ঘোষিত আর্থিক সুবিধা না মিললে লাগাতার এই অনশন চলবে বলে স্বাস্থ্য কর্মীরা জানিয়েছেন।
আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রনের কাজে প্রায় এগারো বছর আগে আলিপুরদুয়ার জেলা সহ রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় বহুমুখী পুরুষ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করা হয়। বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা ৭২ জনকে আলিপুরদুয়ার জেলায় এই কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়। প্রাথমিক ভাবে এদের মাসিক সাম্মানিক ছিল ছয় হাজার টাকার মতো। তবে ২০১১ সালে এদের বেতন পুনঃবিন্যাস হয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু অভিযোগ, এর পর প্রায় দশ বছর ধরে তাদের আর বেতন বৃদ্ধি হয়নি। এমনকি ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রনে তাদের নিযুক্ত করা হলেও বর্তমানে তাদের ডেঙ্গি প্রতিরোধ সহ করোনা মোকাবিলায় কাজ করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্য স্থায়ী চাকরিজীবির মতোই তারাও রাত দিন এক করে কাজ করে চলছেন। কিন্তু অভিযোগ,করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্ট লাইনে তারা কাজ করলেও বর্তমানে রাজ্য সরকার বিভিন্ন সুবিধা ঘোষনা করলেও তা তারা পাচ্ছেন না। এমনকি দীর্ঘ দশ বছর ধরে তাদের বেতন বৃদ্ধিও হয়নি। তাই তারা দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশনে বসেছেন।
এ বিষয়ে বহুমুখী পুরুষ স্বাস্থ্য কর্মীদের আলিপুরদুয়ার জেলার সম্পাদক অপু তন্ত্র বলেন, 'আমরা দীর্ঘ এক দশক ধরে কাজ করলেও আমাদের স্থায়ীকরণ তো দূরে থাক, বেতন পর্যন্ত বাড়ায়নি। উল্টে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করছি। বর্তমানে করোনা মোকাবিলায় স্যাম্পেল কালেকশন, থার্মাল স্কিনিং সহ সেফ হাউসেও ডিউটি দিচ্ছি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করেও মুখ্যমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সাহায্যও আমরা পাচ্ছি না। তাই আমাদের দাবী রাজ্য সরকার ঘোষিত আর্থিক সাহায্য প্রদান সহ আমাদের বেতন বৃদ্ধি করা হোক। দাবী না মেটা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।'

No comments:
Post a Comment