ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করা বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিন প্রায়শই তাঁর বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে শিরোনামে থাকেন। এবার প্রখ্যাত বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিন এখন অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে মুখ খুললেন। তসলিমা নাসরিন বলেছেন যে ভারতের বেশিরভাগ হিন্দু চান রাম মন্দির তৈরি হোক, তাই এটি তৈরি হোক। মুসলমানদের মতো তাদেরও পুরোপুরি ধর্মীয় ও কট্টরপন্থী হওয়ার অধিকার রয়েছে। তসলিমা নাসরিন আরও বলেছেন যে, আপনি হিন্দু হলে আপনার ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া উচিৎ, এটির প্রয়োজন হয় না।
তসলিমা আরও বলেছেন যে, 'আমি ভূমি পূজা দেখেছি, যেমন আমি কাবা প্রদক্ষিণ করতে দেখেছি, মিনার দেওয়ালে শয়তানকে পাথর মেরে, সেন্ট প্যাট্রিক্স ডে-এর কুচকাওয়াজ দেখে, গির্জার প্রচার করছি, ওল্ড জেরুজালেম শহরের পশ্চিম দেওয়ালে ইহুদিদের জপ করে হাঁটার সময় দেখেছি এতে অংশ নেওয়া আমার কাজ নয়। আমার কাজ শুধু দেখা। রাম মন্দির নির্মাণে আমি দুঃখী বা খুশী নই। ভারতের বেশিরভাগ হিন্দু চান রাম মন্দির তৈরি হোক, তাই এটি তৈরি হোক। তসলিমার কথায়, 'মুসলমানদের মতো তাদেরও (হিন্দুরা) পুরোপুরি ধর্মীয় ও কট্টরপন্থী হওয়ার অধিকার রয়েছে। আপনি যদি হিন্দু হন তবে আপনার উচিৎ ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া, এটি জরুরি নয়।"
কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের শাহী ইমাম, অযোধ্যাতে রাম মন্দির নির্মাণ সম্পর্কিত তসলিমার এই বক্তব্য প্রসঙ্গে মৌলানা বরকতী বলেছেন যে, বাংলাদেশী লেখক হিন্দুদের সরাসরি কথা বলার এবং তাদের উগ্রবাদী বলে অভিহিত করার চেষ্টা করেছেন যা কোথাও থেকে সঠিক ও ন্যায্য এটি না। রাম মন্দির ইস্যুতে হিন্দুদের ধর্মীয় বা কট্টরপন্থী হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
মসজিদের জন্য পাঁচ একর জমি দেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে
এর আগে অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এলে তিনি মসজিদটি নির্মাণের জন্য মুসলমানদের পাঁচ একর জমি দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেছিলেন যে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অযোধ্যায় হিন্দুদের ২.৭৭ একর জমি দিয়েছে এবং মুসলমানদের পাঁচ একর জমি দিয়েছে। মুসলমানদেরও ২.৭৭ একর জমি দেওয়া উচিৎ ছিল। তিনি এমনকি বলেছিলেন যে, 'আমি যদি বিচারক হতাম তবে আমি অযোধ্যাতে ২.৭৭ একর জমি সরকারকে দিতাম যাতে সেখানে একটি আধুনিক স্কুল তৈরি করা যায়, যেখানে সমস্ত শিশু নিখরচায় পড়াশোনা করতে পারে। এ ছাড়া একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি দিতাম যাতে রোগীদের সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা করা যায়।

No comments:
Post a Comment