৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে প্রায় ৮১ টা বিডিও অফিসের সামনে ধর্নায় বসবে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। আম্ফানে ত্রাণ দুর্নীতি সহ কোভিড মোকাবেলা এই সকল বিষয় প্রাধান্য পাবে ওই দিন। এই সব কিছুর বিরুদ্ধেই ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ বিক্ষোভ বলে জানান দিলীপ ঘোষ।
রাজ্য বিজেপির সভাপতির অভিযোগ, 'দুর্নীতিগ্রস্ত রাজ্য সরকার। ঘূর্ণিঝড়ে ত্রাণ বিলি থেকে শুরু করে সবেতেই দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিও রাজ্য সরকারের হাতের বাইরে। অথচ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। প্রতিবাদ করলেই কেস দেওয়া হচ্ছে।' তৃণমূল শাসনের জামানায় এমএলএ থেকে সাধারণ কর্মী, কারও জীবনই সুরক্ষিত নয় বলে এদিন দাবী করেন দিলীপ ঘোষ। লকডাউন করেও যে বিজেপিকে ওইদিন আটকানোর যাবে না, এদিন এমনই রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে এই প্রথম নয়, বরাবরই 'কুছ পরোয়া নেহি' ধরনের মনোভাব নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় দেখা গিয়েছে দিলীপ ঘোষকে। তবে এই 'ইম্প্রেশন' আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে দিল্লি। বিজেপির সূত্রে খবর, এই বিষয়ে সতর্ক করতেই দিল্লি তলব করা হয় তাঁকে। দলের এক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি দিলীপবাবু এবং তাঁর শিবির সম্পর্কে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ গিয়েছিল। দিল্লিতে পর্যালোচনা পর দিলিপের বাসভবনে এদিনের বৈঠকেও উঠে আসে বিষয়টি। সূত্রের খবর, কৈলাস বিজয়বর্গীর নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে সবাইকে নিয়ে চলার 'সাজেশন' দেওয়া হয় এই দিনের বৈঠকে।
যদিও অভিযোগের কোন প্রশ্নই নেই বলে এদিন বিষয়টি উড়িয়ে দেয় রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর কথায়, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ হচ্ছে। প্রয়োজন মনে করলে কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যে এসে কাজ করবেন। এদিন মুকুল রায়ের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'মুকুল দার মতো একজন সিনিয়র লিডারের অহেতুক রাস্তায় নেমে কাজ করার কি প্রয়োজন ! এই পরিস্থিতির জন্য আমরা বারণ করেছি, তাই তিনি অফিসে আসেন না। আমরা যেদিন বলব সেইদিনই নেমে পড়বেন কাজে।'
উল্লেখ্য, রাজ্য বিজেপির অন্দরে দুটি দলে বিভক্ত হয়েছে বলে জোর গুঞ্জন উঠেছিল কয়েকদিন ধরেই। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কয়েকদিন আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, 'বিজেপি পার্টি একটা পরিবার। আমাদের মধ্যে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই।' কিন্তু তারপরও বন্ধ হয়নি সমালোচনা। তারপরেই এদিন তড়িঘড়ি দিল্লিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে দলীয় সূত্রে।
অন্যদিকে, এরমধ্যেই কলকাতায় কৈলাস বিজয়বর্গীয় আগমন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দলের একাংশ। এদিনের বৈঠক যেমন দলের নতুন কর্মসূচি ও রণকৌশল ঠিক করা হয়েছে। এর সাথেই বিধানসভা ভিত্তিক সংগঠন নিয়ে আলোচনাও হয়। তেমনই, দলের মধ্যে যেন কোনওরকম মতানৈক্য না থাকে, সে বিষয়েও একটা পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। আর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই মগজ ধোলাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

No comments:
Post a Comment