নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে ৩০,০০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ করেও সুরাহা না হওয়ায়, মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ বিডিও অফিসের সামনে স্ব-পরিবারে ধর্নায় বসলেন এক দুঃস্থ পরিবার। ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য হরিশ্চন্দ্রপুরে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত প্রকল্পের টাকা পেতে কাটমানি নেওযার অভিযোগ উঠেছিল এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অলোক পোদ্দারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বাংলা আবাস যোজনার ঘরের জন্য ওই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ৩০ হাজার টাকা কাটমানি নিয়েছেন। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও জানানো হয়। পাশাপাশি তৃতীয় কিস্তির টাকার জন্য ফের টাকা চাওয়া হচ্ছে বলেও লিখিত অভিযোগ জানান মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপভোক্তা সেহেনা খাতুনের স্বামী হাসিমুদ্দিন। তার অভিযোগ, কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য আরাধনা পোদ্দারের স্বামী অলোক পোদ্দার ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন।
এখন ফের টাকা চাইছেন তিনি। টাকা না দেওয়ায় তৃতীয় কিস্তির টাকা মেলেনি। ফলে ঘর সম্পূর্ণ করতে পারেননি। কিন্তু অভিযোগ করার পর দেড় মাস পার হলেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ওই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা উল্টে তাকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ না তোলায় সেহেনার স্বামী হাসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে তাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ জানিয়েছেন ওই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অলোক পোদ্দার। তারপর ফের বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ জানান হাসিমুদ্দিন। দ্বিতীয়বার অভিযোগ জানানোর জন্য ওই নেতার লোকজন প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে। বুধবার জীবন বাঁচানোর তাগিদে ও প্রাপ্য অর্থ আদায়ের দাবী নিয়ে বিডিও অফিসের সামনে সপরিবারে ধর্নায় বসলেন ওই উপভোক্তা সেহেনা খাতুন।
বুধবার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকে ওই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। উপভোক্তা সেহেনা তার স্বামী হাসিমুদ্দিন, বৃদ্ধা শাশুড়ি, প্রতিবন্ধী ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বিডিও অফিসের সামনে ধর্নায় বসেন। অভিযোগ জানানোয় তারা প্রাণ ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন! ফলে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্য়ন্ত তারা আমরন অনশন চালিয়ে যাবেন বলেও হুমকি দেন।
জানা গিয়েছে, অলোক পোদ্দারের স্ত্রী আরাধনা পোদ্দার কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। তবে তার স্বামী অলোক নিজেকে এলাকায় সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। আগে তিনি সিপিএম করলেও পঞ্চায়েত ভোটের পর শাসকদলে যোগ দেন। কিন্তু বাংলা আবাস যোজনার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে কাটমানি নেন বলে অভিযোগ। যদিও অলোকের এতটাই দাপট যে, কেউই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি। তবে এতে দলের ক্ষতি হওয়ায় ভিতরে ভিতরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দলেরই একাংশ।
অলোক বর্তমান ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তাজমুল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তার মদতেই পুলিশকে দিয়ে মিথ্যে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন হাসিমুদ্দিন। ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ বিরোধীদের পাশাপাশি শাসকদলেরই অধিকাংশ নেতা।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত অলোক পোদ্দার তার প্রতিক্রিয়া দিতে নারাজ।
হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লক ১ বিডিও অনির্বাণ বসু জানান, কেউ যদি সরকারি প্রকল্পের কাজের জন্য টাকা নিয়ে থাকে সেটা ফৌজদারি অপরাধ, আমরা তদন্ত করছি। তিনি পঞ্চায়েত কর্মী নন, যার নামে অভিযোগ উঠেছে তিনি পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামী বলে আমাদের একটু সময় লাগছে। পাশাপাশি বলেন, 'রাজ্য সরকার গরিবদের জন্য অনেক প্রকল্প এনেছেন, সেই সুবিধা পাওয়ার জন্য কেউ যেন কাউকে টাকা না দেন। কোন প্রতারকের ফাঁদে না পড়েন সেটাও আমরা বলছি।' সরকারি প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য কেউ যদি টাকা চান তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এটাও জানিয়ে দিলেন বিডিও।

No comments:
Post a Comment