নিজস্ব সংবাদদাতা, উওর ২৪ পরগনা: প্রেম করে সেই সম্পর্কটাকে বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে যেতে অনেকেই চান না। নানান অজুহাতে বা কখনও বাধ্য হয়ে বেরিয়ে আসতে হয় সেই সম্পর্ক থেকে। আবার সেই ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেতে আজকাল তো নতুন অস্ত্র হয়েছে ধর্না। কিছু হলেই প্রেমিক বা প্রেমিকারা বসে যাচ্ছেন ধর্নায়। তবে এই প্রেমিক তার প্রেমিকাকে অস্বীকার করেননি, তিনি শুধুমাত্র একজন সচেতন নাগরিকের মতো কাজ করতে চেয়েছেন। প্রেমিকা নাবালিকা, তাই বিয়েতে মত নেই প্রেমিকের। কিন্তু প্রেমিকা বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে বসে গেলেন ধর্নায়।
উওর ২৪ পরগনার বসিহাট মহাকুমার হিঙ্গলগঞ্জ থানার নবীগঞ্জ গ্রামের ঘটনা। বছর ১৭ নাবালিকা প্রেমিকা, বাড়ী দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছোট মোল্লাখালি থানার কুমিরমারি গ্রামে। আত্মীয়র বাড়ীতে আসার সুবাদে পরিচয় হয় হিঙ্গলগঞ্জের নবীগঞ্জের গ্রামে মহাদেব সর্দারের সঙ্গে। বছর একুশের প্রেমিক, প্রথমে আলাপ পরিচয়, তারপর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা, প্রেম আলাপ, প্রায় এক বছর ধরে তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রেমিক-প্রেমিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রেমিকা বারবার বলা সত্ত্বেও বিয়েতে রাজি না হওয়ায় গতকাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাড়ী থেকে চলে এসে প্রেমিকের বাড়ির বারান্দায় রীতিমতো ধর্নায় বসে যায় প্রেমিকা।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর মুখ খোলেন প্রেমিক। বলেন, প্রেমিকার বয়স ১৭, ও এখনও নাবালিকা, তাই এই বিয়েতে রাজি নয় প্রেমিক। প্রেমিক মহাদেব উপায় না পেয়ে নিজে মোবাইল ফোনে হাসনাবাদের কেয়ার চাইল্ড লাইনের সদস্য শফিকুল ইসলামকে পুরো বিষয়টা জানান। কিছু সময় পর হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশকে সঙ্গে করে তিনি হাজির হন মহাদেবের বাড়ীতে। তখন দেখা যায় বারান্দায় প্রেমিকা ধর্নায় বসে আছে। তারা পুরো বিষয়টা বোঝায় এবং মুচলেকা দেওয়া হয় যতদিন প্রেমিকার ১৮ বছর বয়স না হবে ততদিন এই বিয়ে হবে না, এটা আইনত অপরাধ। প্রেমিক প্রেমিকা মুচলেকা দেয় প্রেমিকার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলে, সাবালিকা হলে তাকেই বিয়ে করবে, এমনটাই জানানোর পর প্রেমিকের বারান্দা থেকে ধর্না উঠিয়ে নেয় প্রেমিকা। সুন্দরবন প্রত্যন্ত গ্রামের মধ্যে এ ধরনের ঘটনায় ঘটায় হতবাক গ্রামের মানুষ।

No comments:
Post a Comment