আজ বালুরঘাটে মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর শক্তিপুর এলাকার বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ওই মহিলা জানান গত ২১ জানুয়ারি ২০১৮ সালে একটি বিবাহ বন্ধনের ইন্টারনেটে পরিচয় হয় এবং তার সাথে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মির্জা মহল্লার বাসিন্দা ডাক্তার হাসান সুবিদের বিয়ে হয় বহরমপুরের একটি লজে। তারপর থেকে ওই মহিলা তার শ্বশুর বাড়ীতেই থাকতেন বলে জানান। যদিও ডাক্তার হাসান সুবিদ কর্মসূত্রে বালুরঘাটে থাকতেন একা।
ওই মহিলার আরও অভিযোগ, ডাক্তার হাসান সুবিধের এর আগেও বিয়ে হয়েছে এবং তার দুটি বাচ্চাও রয়েছে। সেই ঘটনা গোপন করেই হাসান সুবিদ ওই মহিলার সাথে বিবাহ করেন। ওই মহিলা ঘটনাটি জানার পরেও ব্যাপারটি মেনে নিয়েছিলেন বলেই জানান। তিনি আরও বলেন, ডাক্তার হাসান সুবিদকে তিনি তাঁর কর্মস্থল বালুরঘাটে নিয়ে যেতে বললে তিনি বারবার করে সে অনুরোধ এড়িয়ে যেতেন। মহিলা অভিযোগ করেন, এর মাঝে হাসান সুবিদ জোরপূর্বক তার একটি গর্ভের সন্তান নষ্ট করেছেন। পুনরায় সেই মহিলা গর্ভবতী হয়ে পড়লে আবারও হাসান সুবিদ সেই মহিলাকে জোরপূর্বক তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা। ওই মহিলা তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসান সুবিদ সেই মহিলাকে তার বাপের বাড়ী মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর এলাকায় রেখে আসেন বলে জানান ওই মহিলা।
এরপরে ওই মহিলা আরও অভিযোগ করেন যে ইতিপূর্বে তিন তালাক নিষিদ্ধ হলেও হাসান ছবির তাকে সাদা কাগজে লিখে কিছুদিন আগে তালাক দেন। সেই বিষয়ে ওই মহিলা বালুরঘাটে এসে ডাক্তার হাসান শহীদের কৈফত চাইতে গেলে ডাক্তার হাসান সুবিদ তাকে নির্যাতন করেন বলেও অভিযোগ। এরপর ওই মহিলা বালুরঘাট মহিলা থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি করেন। পাশাপাশি ওই মহিলার বাড়ীর লোক জানিয়েছেন, যাতে ডাক্তার হাসান সুবি কোনভাবেই আইন কে প্রভাবিত না করতে পারে সেই কারণে তারা মুর্শিদাবাদে গিয়ে সম্পন্ন আইন মোতাবেক ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন।
এই করোনা সংকটের মাঝে যখন সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তারদের ভগবানের আসনে বসিয়েছেন ঠিক তখনই একজন স্বনামধন্য ডাক্তারের বিরুদ্ধে এইরূপ গুরুতর অভিযোগ ওঠায় উঠেছে প্রশ্ন। পাশাপাশি ওই মহিলার অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশ প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেন সেটাই এখন দেখার। এই বিষয়ে ডাক্তার হাসান সুবিদের বক্তব্য জানার জন্য আমরা বারবার ডাক্তার হাসান সুবিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সংবাদমাধ্যমের সাথে যোগাযোগ করেননি।

No comments:
Post a Comment