এ প্রসঙ্গে বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি সুনীল সিংয়ের দাবী, 'পৌষমেলা প্রাঙ্গন নিয়ে মিথ্যে কথা বলছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য। মেলার উল্টো দিকেই বোলপুর থানা। এছাড়া এই মেলার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় বেসরকারি সংস্থার হাতে। তাই গোটা মেলা প্রাঙ্গনেই নিরাপত্তা কর্মীরা থাকেন।'
সুনীল বাবুর কথায়, 'এত নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশ থাকার পরও কেউ কীভাবে ওই ধরনের বেআইনি কাজ করতে পারে? স্থানীয়রা যাঁরা মেলাপ্রাঙ্গনে পাঁচিল দেওয়ার বিরোধিতা করেছে, তাঁদের নামে মিথ্যে বলা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে এজন্য ক্ষমা চাইতে হবে।'
বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের দাবী করেছে, 'এই ধরনের মন্তব্য আসলে বিখ্যাত এই পৌষমেলা এবং তাতে অংশগ্রহণকারীদের কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা। সংগঠনের সভাপতি সমিরুল ইসলামের কথায়, 'এটা বাংলার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা। উপাচার্যকে এ ধরনের মন্তব্য করার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করছি। দরকার হলে বিক্ষোভও দেখাব।' যদিও এ ব্যাপারে উপাচার্যের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৭ আগস্ট শান্তিনিকেতনের মেলার মাঠে উপাচার্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পাঁচিল তোলার কাজ করছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের একাংশ রীতিমতো পে-লোডার নিয়ে গিয়ে তা ভেঙে দেয়। পড়াশোনার মুক্ত পরিবেশে কেন পাঁচিল উঠবে, এই প্রশ্ন তুলেই ভেঙে ফেলা হয় নির্মাণ।
সেই ঘটনা ঘিরে এবার নজিরবিহীন এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যমণ্ডিত বিশ্বভারতী। ঘটনায় রাজনীতির রঙ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এরপর বুধবার বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উপাচার্যের একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানেই বলা হয়, 'যারা ওই মেলাপ্রাঙ্গনে অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত থাকে, তারা যাতে সেখানে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য মেলাপ্রাঙ্গনে পাঁচিল দেওয়ার কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেলার মাঠের সামনের একটি দোকান থেকে কখনো মদের বোতল, ব্যবহার করা কন্ডোম, আবার কখনও গাঁজা, ফেলে দেওয়া খাবার–দাবার পাওয়া যায়।' এরপরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment