লেচুগিয়া: পাতালপুরীর স্বর্গরাজ্য - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 7 August 2020

লেচুগিয়া: পাতালপুরীর স্বর্গরাজ্য

 



যুক্তরাষ্ট্রের এই শুস্কভুমির নীচে লুকিয়ে আছে এক রহস্যময় জগৎ। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা,গভীর এবং বিস্ময়কর গুহাগুলির মধ্যে একটি। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এই গুহার রহস্য সবার কাছে অজানাই ছিল।সেই সময়কার অধিবাসীরা গুহার ভেতর চলাফেরার জন্য একটি রাস্তা তৈরি করেন। তারা গুহাটির নামকরণ করেন 'লেচুগিয়া"।


এখনো পর্যন্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার গুহাপথ নথিভুক্ত করা হয়েছে।প্রথমদিকে কেউই গুহাটির আকার সম্পর্কে কোনো ধারনা করতে পারেনি। কিন্তু এই গুহার সুবিশাল আকারই এর সবচেয়ে বড়ো রহস্য নয়। আবিষ্কারের কয়েক বছরের মধ্যেই এটি পৃথিবীর সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর গুহা হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। এই গুহার অভ্যন্থরে রয়েছে পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর নির্মাণ শিল্পশৈলি। গুহাটির দেওয়াল পুষ্প সদৃশ ক্রিস্টালে আবৃত। ক্রিস্টালগুলো অধিকাংশই জিপশামের তৈরি। জিপিশাম একটি  খনিজ লবণ যা চুনাপাথর থেকে তৈরি হয়। গুহাটির জিপিশামের এই সাজসজ্জা মাইলের পর মাইল বিস্তৃত। গুহার ভেতর প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে প্রাসাদ সদৃশ্য অসংখ্য পিলার। এগুলির কোনো কোনোটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাজসজ্জা এবং পিলার গুলো কিভাবে তৈরি হলো?



পৃথিবীর অধিকাংশ গুহা তৈরি হয়েছে বৃষ্টির জলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে। কিন্তু লেচুগীয়ার এই গুহা তৈরি হয়েছে সালফুইরিক এসিড দ্বারা। সালফিউরিক এসিডে যখন বেলেপাথর দ্রবীভূত হয় তখন তৈরী হয় জিপশাম।এই জিপশামই এই অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য দায়ী। তবে ভূমি থেকে দেড় কিলোমিটার গভীরে গুহাটির একটি কক্ষ বেশ বিস্ময়কর। কক্ষটির নাম 'শ্যানডেলিয়ার বলরুম'। এখানকার ক্রিস্টাল গুলির কোনো কোনোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ফুট। এটি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর অদ্ভুত গুহাগুলির মধ্যে একটি। গুহাটির দেওয়াল জুড়ে বসবাস এক্সট্রিমফিল ব্যাকটেরিয়ার। এইসব ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বেলেপাথরকে তাদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

ভূগর্ভস্থ জগৎ আমাদের কল্পনার থেকেও বিস্ময়কর।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad