রাজ্যে পদ্ম ফুল ফোটানোর লক্ষ্যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সদস্য অভিযানে নামতে চলেছে গেরুয়া শিবির - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 2 July 2020

রাজ্যে পদ্ম ফুল ফোটানোর লক্ষ্যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সদস্য অভিযানে নামতে চলেছে গেরুয়া শিবির




নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতাএকুশের ভোটের ময়দানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল আগেই। এবার সৈন্যদল সাজাতে শুরু করে দিল বিজেপি। বৃহস্পতিবার তেমনটাই আভাস দেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আগামী ৬ জুলাইয়ের পর থেকে ফের সদস্য অভিযানে নামতে চলেছে রাজ্য বিজেপি।

এদিন দিলীপ ঘোষ জানান, 'তৃণমূলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'আর নয় অন্যায়' অভিযান চলবে ৬ জুলাই পর্যন্ত। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ৫৩ লক্ষ মানুষের বাড়ীতে পৌঁছেছে বিজেপি কর্মীরা। এবার ৬ জুলাইয়ের পর থেকে শুরু হবে সদস্য অভিযান।' ইতিমধ্যে গতবছরই বিজেপির এই সদস্য অভিযানে পশ্চিমবঙ্গে ৯৮ লক্ষ সদস্য হয়েছে বলে এদিন দাবী করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

সংখ্যাটা ৯৮ লক্ষ্য কিনা এই নিয়ে সংশয় থাকলেও, গত এক বছরে পশ্চিমবঙ্গে যে বিজেপি নিজেদের মাটি অনেকটাই শক্ত করেছে, সে বিষয়ে প্রায় সংশয় নেই বাকি রাজনৈতিক দলগুলোরও। যার প্রমাণ মিলেছে ২০১৯- এর লোকসভা ভোটেই। ২০১৪ সালে ২ টি আসনের পর ২০১৯ -এর লোকসভা ভোটে এক লাফেই পশ্চিমবঙ্গে ১৮ টি আসন দখল করে বিজেপি। বর্তমানে রাজ্যে শাসকদলের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধীপক্ষ হিসেবে রাজ করছে বিজেপি একথা অনস্বীকার্য। তবে এখানেই থেমে থাকতে নারাজ বিজেপি কর্তারা। রাজ্যে মাটি শক্ত করার পর, এবার রাজ্য শাসনের দিকে লক্ষ্য রেখে এগোতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

বিজেপির বহু পুরনো নীতি হিন্দুত্ববাদকে কায়েম করে সারা  দেশে নিজেদের ভোট ব্যাংক পুরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু আম বাঙালির কাছে যে এই পন্থা মোটেও সুবিধার হবে না তা বারবার বুঝিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। যে হিন্দুত্ববাদ দিয়ে প্রায় সারা দেশের অ-বাঙালির ভোট টানতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি, কিন্তু সেখানে একটা সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ফল ছিল শূন্য, তার কারন ছিল হিন্দুত্ববাদই। তাই পশ্চিমবঙ্গে ভোট টানার জন্য এই নীতিকে পাল্টানো দরকার ছিল। এই কথাই বুঝিয়েছিলেন বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূলের একসময়ের চাণক্য মুকুল রায়।

শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালের নভেম্বরে । দলনেত্রীর সঙ্গে বিবাদের জেরে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করেন তৎকালীন তৃণমূলের সেকন্ড ইন কমান্ড মুকুল রায়। সেই সময় তার সঙ্গেই দল ছেড়েছিলেন তার অনুগামীরা। তারপর থেকেই ভাঙ্গন ধরতে থাকে শাসক শিবিরে। চাণক্যের ভুমিকা পালন করে, একে একে তৃণমূলের প্রচর দাপুটে নেতাকে গেরুয়া শিবিরে টানতে থাকেন মুকুল রায় । বাদ যায়নি বিরোধী দল গুলোও। শুরু হয়ে যায় মুকুল ম্যাজিক।

তৃণমূলের থেকে আসাদের মধ্যে মুকুল রায়ই একজন, যিনি তৃণমূলের অন্দরের দুর্বলতাকে চেনেন জলের মতো স্বচ্ছভাবে। তাই তৃণমূলকে ভেঙে বিজেপিকে প্রতিষ্ঠা করতে তিনিই একমাত্র সক্ষম ছিলেন। তবে মুকুল রায়ের ক্ষেত্রে বিজেপির বরাবরই যে ভয়টা কাজ করেছে, সেটা হল মুকুল রায়ই যে একজন যিনি একমাত্র পারেন তৃণমূলকে গুড়িয়ে দিতে, তেমনই তিনিই একমাত্র যিনি পারেন তৃণমূলকে নতুন ভাবে গড়ে দিতে। মুকুল পুনরায় ঘাস ফুল ধরলে বিজেপির সব কথা যে ফাঁস হয়ে যাবে সেই ভয়েই মুকুলকে দূরে রেখে দিয়েছে দল, যা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে প্রতিষ্ঠিত করতে বাধা হয়ে রয়েছে বলে মনে করেন অনেক রাজনৈতিকবীদই। এখন দেখার বিষয়, এই উভয় সংকটের ভীতি কাটিয়ে রাজ্যে পদ্ম ফুল ফোটাতে সক্ষম হয় কিনা বিজেপি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad