নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দলীয় কোন্দলে প্রলেপ লাগাতে এবার কলকাতা পুরসভায় ডাক পেলেন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, মঙ্গলবার অন্তত এমনটাই চর্চা হতে থাকে পুরসভার অন্দরে। এই চর্চার কিছুটা সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। যদিও পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিছুদিন আগেই হাওড়ায় আম্ফান দুর্নীতিতে জড়িত পঞ্চায়েত স্তরের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরে শাসক দলের অন্দরে শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। এদিন সেই বিতর্কে গ্রাস টানতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। পুরসভায় ডেকে পাঠান মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে দুজনের মধ্যে একান্ত বৈঠক চলে ফিরহাদ হাকিমের ঘরেই।
যদিও কি বিষয়ে বৈঠক হয়েছে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বৈঠক প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'গতকাল বক্সি দা ডেকেছিলেন গেছি। আজ ববিদা ডেকেছিলেন । এলাম, আলোচনা করেছি। চা খেলাম, যাচ্ছি। যা বলার ববিদা বলবেন।'
তবে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিতর্ক এড়িয়ে গেলেও পুরমন্ত্রী যে তার পাশেই আছেন, অন্তত এমনটাই আভাস দেন ফিরহাদ হাকিম। যদিও ঠিক কি বিষয়ে বৈঠক হয়েছে তার সংবাদমাধ্যমের সামনে বলা যাবে না বলেই এদিন মন্তব্য করেন পুরমন্ত্রী। তবে রাজিবের পাশে থেকেই, হাওড়ার দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, সকলের নাম দিয়ে লিস্ট কার্যকর করার জন্য জেলা সভাপতিকে বলা হয়েছে বলেই এদিন জানিয়ে দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বহুদিন হল তৃণমূলের নেতারা এক এক করে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলা শুরু করেছেন। আম্ফানের পর দলের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে। দুদিন আগে সেই তালিকায় নাম লেখান বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করেই দলের বিরুদ্ধে রীতিমতো বোমা ফাটান ডোমজুড়ের বিধায়ক। তাঁর অভিযোগটা খুব স্পষ্ট, ‘কাজ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু করতে দেওয়া হয়নি।’ দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ঘাসফুল নেতৃত্বকে পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, 'চুনোপুটিদের ধরে কিছু হবে না। যারা বড় এবং আসল মাথা এর পিছনে রয়েছে তাদের সামনে আনতে হবে। প্রচুর রাঘব-বোয়াল, রুই-কাতলা, ইলিশ আছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই আবার আলোড়ন শুরু হয়ে যায় শাসক দলের অন্দরে। কিছুদিন আগেই হাওড়ায় আম্ফান দুর্নীতিতে জড়িত পঞ্চায়েত স্তরের তিন তৃণমূল নেতাকে দল থেকে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেন অরূপ রায়। মুখে কিছু না বললেও রাজীব যে খুব স্পষ্টত এই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট ছিল। এবার সেই ঘায়ে প্রলেপ লাগাতেই হাল ধরলেন পুরমন্ত্রী।

No comments:
Post a Comment