নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুতে উতপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এরইমধ্যে প্রকাশ্যে এল বিধায়কের মৃত্যুর প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। সেই রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে গোটা ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই রিপোর্ট মানতে নারাজ বঙ্গ বিজেপি। অন্যদিকে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অস্বীকার করায় পরোক্ষভাবে চিকিৎসকদের অপমান করা হচ্ছে বলে এদিন মন্তব্য করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, 'মরা ধরার রাজনীতি করছে বিজেপি'।
মৃত বিধায়ক কোন দলে ছিলেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে টানাপোড়েনের রাজনীতি। একদিকে বাম-কংগ্রে দাবী করছে মৃত বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায় বামকং জোটের বিধায়ক ছিলেন। স্পিকারের কাছে তিনি ইস্তফা জমা দিলেও তা গৃহীত হয়নি বলে দাবী করা হয় জোটের পক্ষ থেকে। তবে মৃত বিধায়ক যে দলেরই হোক কিনা এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে রাজনীতি করছে বিজেপি, এমনটাই দাবী করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
এ বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'বিধায়কের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এসেছে সেখানে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে ঘটনাটি আত্মহত্যা। তারপরেও বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুকে খুন বলে উল্লেখ করছে। এতে রাজ্যের চিকিৎসকদের অপমান করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঘটনাটিতে সিবিআই তদন্তের দাবী তুলে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে অপমান করা হচ্ছে। মরা ধরার রাজনীতি করছে বিজেপি। এর আগেও এমনটা করা হয়েছিল বহু ক্ষেত্রেই।'
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হেমতাবাদের বিধায়কের মৃত্যুর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসে। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গলায় ফাঁস দিয়েই মৃত্যু হয়েছে বিধায়কের। এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে তা জানান স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি জানান, ওই বিধায়কের শরীরে অন্য কোন আঘাতের চিহ্ন মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। তবে রাসায়নিক পরীক্ষার পর বাকি তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে বলেই জানান তিনি।
যদিও হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের ময়না তদন্তের রিপোর্টও ছক কষে বদলে দেওয়ার অভিযোগ আনলেন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। অন্যদিকে, বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়কে ‘খুন‘ করার প্রতিবাদ এবং ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবীতে মঙ্গলবার বিজেপি-র এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেন। কৈলাস বিজয়বর্গীয় নেতৃত্বে দলের তরফে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। তাতে এই আবেদন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এদিন রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়। একইসাথে রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

No comments:
Post a Comment