নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাস ভাড়া বৃদ্ধি করা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছিল উত্তেজনা। মুখ্যমন্ত্রী এই দুঃসময়ে ভাড়া বৃদ্ধি করার বিপক্ষে, অন্যদিকে বেসরকারি বাস সংগঠন গুলিও ভাড়া না বাড়ালে বাস না চালানোর পথ বেছে নেবেন বলেই জানান। এরপরে মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন কড়া বার্তা। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে কাজ হল। আগামীকাল থেকে পথে নামতে পারে বেসরকারি বাস। তবে ঠিক কত সংখ্যক বাস আগামীকাল পথে নামবে সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সংগঠন। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর বুধবার ফের একবার বৈঠক ডেকেছিল বাস সংগঠনগুলি। তবে আগামী দিনে পথে বেসরকারি বাস নামবে কিনা সে বিষয়ে আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তা নিশ্চিত করবে বাস সংগঠন। এদিনের বৈঠকের কথোপকথন সংগঠনের বাকি সদস্যদের সাথে আলোচনা করে সেই সিদ্ধান্ত আগামীকাল জানানো হবে বলে জানান সংগঠনের কতৃপক্ষ।
বুধবার বাস মালিকদের সঙ্গে এই বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ সচিব প্রভাত মিশ্র ও রাজ্য পরিবহণ নিগমের ডিরেক্টর। বৈঠকের পর বাস মালিকদের সংগঠনের নেতারা জানান, কাল থেকে রাস্তায় বাস নামবে। তবে সেই বাসের সংখ্যা কত তা স্পষ্ট করেননি মালিকেরা। তবে পরিবহণ সূত্রের খবর, কাল হাজার খানেক বাস আরও নামতে পারে। কিন্তু তাতেও যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে তা নয়।
বৈঠকের পর বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেটের পক্ষে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,' আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বললাম। কাল থেকে বেশ কিছু বাস অতিরিক্ত নামবে। তবে কাল বিকেলে আমরা আমাদের অবস্থান চূড়ান্ত জানিয়ে দেব। কারণ আমাদের সব সদস্যদের সঙ্গে দুপুরে বৈঠক করে তারপরেই সিদ্ধান্ত নেব।' বাস-মিনিবাস সম্বণ্বয় কমিটির পক্ষে রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানান, অনেক বাসই সরকারের দেওয়া ভর্তুকি নিতে রাজি। ফলে কাল থেকে অনেক বাসই নামবে।
এদিন এই প্রসঙ্গে সিটু নেতা অনাদি শাহ বলেন, 'সরকার যে ভর্তুকি দিচ্ছে তা যথার্থ নয় বরং বাস মালিক শ্রমিক ও জনসাধারণের কথা মাথায় রেখে সরকারকে আরও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভর্তুকি দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় পরিবহন ব্যবস্থা থেকে সরকার যে কয়েক শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় সেই মতই সামঞ্জস্য রেখে এই ক্ষেত্রেও ভর্তুকি দিতে হবে।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ১ জুলাই থেকে বেসরকারি বাস রাস্তায় নামলে, আগামী তিন মাস ভর্তুকি বাবদ ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। বাস মালিকেরা প্রথমে এই সিদ্ধান্ত মানলেও, পরে তা নিতে অস্বীকার করেন। ফলে সমাধানের দিকে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ফের জট বাঁধে বাস নামানো নিয়ে। তারপরেই বাস অধিগ্রহণ করার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরে বাস রাস্তায় না নামায় ফের এদিন বৈঠকে বসে সরকার ও বাস মালিকেরা।

No comments:
Post a Comment