নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দ্রুত গতিতে করোনা তার প্রভাব বিস্তার করছে। এবার করোনা আতঙ্কে সম্পূর্ণ সিল করা হল আলিপুরের অভিজাত আবাসন। কলকাতা পুরসভার নয়া নিয়ম অনুযায়ী, কোন জায়গা থেকে করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিললে কেবলমাত্র সেই বাড়ীটিকেই কনটেইনমেন্ট জোনের আওতায় ফেলা হবে। অন্যদিকে কোন ফ্ল্যাট বা আবাসন থেকে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তাহলে সে ক্ষেত্রে কেবলমাত্র শুধু সেই প্রার্থীকেই সংক্রমিত জোন ধরা হবে। এবার সেই সংজ্ঞা পাল্টে দিয়ে আলিপুরের একটি অভিজাত ও আবাসনকে পুরোটাই কনটেন্টমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হল। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা পুলিশ গিয়ে আলিপুরের সত্যম আবাসনকে সম্পূর্ণ গাইড রেল দিয়ে ঘিরে দেন। প্রথম কোন আবাসনকে কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হল।
পুলিশ সূত্রে খবর, সত্যম টাওয়ার নামের ওই ১০ তলা আবাসনে ৬৪ টি ফ্ল্যাট আছে। সেখানে মোট ২৫০ জন বাসিন্দার বাস। এদিকে নীচে আপার ও লোয়ার বেসমেন্ট মিলিয়ে অফিস আছে ২২টি। প্রতি অফিসে গড়ে কর্মী সংখ্যা ২০। সম্প্রতি জানা গেছে, ওই আবাসন থেকে প্রায় ৭০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেই কারণেই কোনরকম ঝুঁকি না নিয়ে এদিন সকালেই ওই আবাসনের সামনের ও পেছনের দরজা সম্পূর্ণ গাড্রেল ও স্টিকার দিয়ে বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
রাজ্য করোনা আক্রান্ত ও মৃতের নিরিখে একেবারে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। শহরের বেশ কিছু জেলায় ওজন বাড়িয়ে লকডাউন আরও কড়া করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে নবান্ন। এদিকে বারবারই সামনে এসেছে বস্তি এলাকার তুলনায় আবাসন গুলিতে ক্রমশই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। তাই এবার বাড়তি সতর্কতা নিতেই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হল আলিপুরের এই অভিজাত আবাসন। আলিপুর থানার পুলিশের তরফে কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই আবাসনে যেমন বাইরে থেকে কেউ ভেতরে ঢুকতে পারবে না ঠিক তেমনি কোন আবাসিক বাড়ীর বাইরে বের হতে পারবেন না। অনলাইন খাবার যদি কেউ অর্ডার করে থাকেন তাহলে সে ক্ষেত্রে ডেলিভারি বয়কে দরজার বাইরে খাবার রেখে যেতে হবে এবং আবাসিক এসে সেই খাবার নিয়ে যাবেন। এছাড়াও আবাসনের কারওর যদি রেশনের প্রয়োজন হয় তাহলে পুলিশকে তা জানালে পুলিশ সেই প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা করে দেবে।

No comments:
Post a Comment