মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে অনশনের হুমকি গ্রামীন সম্পদ কর্মীদের - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 31 July 2020

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে অনশনের হুমকি গ্রামীন সম্পদ কর্মীদের





প্রায় একযোগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা মধ্য দিয়ে নিয়োগ করা হয়েছিল গ্রামীন সম্পদ কর্মীদের, যাদের পোশাকি নাম ভিআরপি। জেলা সামাজিক নিরীক্ষা দপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত গুলিতে সামাজিক নিরীক্ষার কাজে লাগানো হয় তাদের। তারা মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের এম জি এন আর ই জি এ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্প, এই তিনটি  প্রকল্পের উপরে সামাজিক নিরীক্ষা করে থাকেন । 

সামাজিক নিরীক্ষার কাজ বছরে দুবার বরাদ্দ থাকলেও তারা সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ত্রিপুরা মেঘালয় রাজ্য গুলিতে বছরে ১৫০ দিন সামাজিক নিরীক্ষা  করার সুযোগ পান ভিআরপিরা এবং তাদের বেতন পরিকাঠামো ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা মাসে । কিন্তু  বাংলায় সেই নিয়ম নীতি মানা হয় না বলে অভিযোগ করেন সারাবাংলা গ্রামীন সম্পদ কর্মী সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মিজানুর রহমান। জেলা সামাজিক নিরীক্ষা দপ্তর থেকে ভিআরপিরা বছরে মাত্র ৭২৩০ টাকা বেতন পান। এ নিয়ে তারা  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে  বারবার অনুরোধ করেন। ফলে ২০১৮ সাল নাগাদ রাজ্যে যখন ব্যাপকহারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল তখন তাদের দিয়ে ডেঙ্গু নিধন কর্মসূচিতে সংযুক্ত করানো হয় বলে জানান তিনি । ১০/৫/২০১৮ তে একটা বিজ্ঞপ্তির মধ্য দিয়ে বছরে মাত্র ৬০ দিন Vector-Borne Disease Control(VBDC) এর কাজ  দিয়ে দায় সারেন সরকার ।

১৫০ টাকায় বছরে মাত্র ৬০ দিন কাজ করে সংসার নির্বাহ করা দুর্বিষহ। তাই তারা সারাবাংলা গ্রামীন সম্পদ কর্মী সংগঠন নামক সংগঠন তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রী দ্বারস্থ হন। সংগঠনের সম্পাদক হরিসাধন রুইদাস-এর দাবী, তারা ব্যাপকভাবে সংঘটিত হয়ে  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাদের দুঃখ-দুর্দশার ছবি তুলে ধরেন ।  সরকারি কর্মচারী মর্যাদা, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সহ  বর্ধিত কর্মের দাবী নিয়ে কলকাতার বুকে তিন-তিনবার শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেন।

২০১৯ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারি কলকাতার রামলীলা ময়দান থেকে  প্রায় ২৫০০০ গ্রামীন সম্পদ কর্মী একযোগে পদব্রজে এগিয়ে যান  নবান্ন অভিমুখে। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী তাদের কার্যপ্রণালীকে মূল্যায়ন করেন  ও দৈনন্দিন জীবনে অসহায়তার কথা ভেবে বছরে ২৪০ দিন কাজের সুযোগ করে দেন । কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, ১৭৫ টাকায় এক মাস কাজ করে মাসোহারা জোটে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা, যা দিয়ে সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরানোর উপক্রম । বিগত লোকসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী তাদের কথা দেন ভিআরপিদের একটা সিস্টেমের মধ্যে এনে মাসোহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু অদ্যাবধি সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলে দাবী করেন সম্পদ কর্মী সংগঠনের রাজ্য প্রতিনিধি শেখ রাজু আলী সহ অমিত সরকার, তারক কর্মকার, লক্ষীকান্ত দত্ত, রহমত উল্লাহ খান, ইলিয়াস আলমরা।

বর্তমানে করোনার আবহে  ইতিমধ্যেই তারা ৭ই জুলাই মুখ্যমন্ত্রীকে ইমেইলের মধ্য দিয়ে চিঠি দিয়েছেন এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দাবী করেন সম্পদ কর্মী সুজা উদ্দিন আহমেদ। চিঠি দিয়ে সম্পদ কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে  আবেদনও রেখেছেন বলে জানা যায়।

 আগামী দিনে ভিআরপিদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে লকডাউন শেষ হলেই আবারও কলকাতার বুকে বৃহত্তর আন্দোলন সহ অনশনের পথ বেছে নেবেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad