নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হেমতাবাদ এর বিধায়কের মৃত্যু নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে দুই পাতার চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সেই চিঠি রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছে দেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা লোকসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। এদিন প্রায় ২৫ মিনিট রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন এই তৃণমূল সাংসদ।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'বিরোধীদলের একজন বিধায়ককে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।' একইসঙ্গে ময়না তদন্তের রিপোর্টের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, 'ময়নাতদন্তের রিপোর্টের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী এটি আত্মহত্যা বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে বলে রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে। মৃত বিধায়কের পকেট থেকে যে নোট পাওয়া গিয়েছে, সেখানে লেখা দুজনের নামের মধ্যে একজন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে এবং তারা দুজনেই আর্থিক লেনদেনের সাথে যুক্ত ওই এলাকায়।'
সময় যতই পেরিয়েছে বিধায়কের মৃত্যু নিয়ে ততই উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। এরই মধ্যে মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। সেই রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে গোটা ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই রিপোর্ট মানতে নারাজ বঙ্গ বিজেপি। এই গোটা ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলেই উল্লেখ করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করে বিজেপি নেতৃত্ব। কৈলাস বিজয়বর্গীয় নেতৃত্বে রাষ্টপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা। সেই স্মারকলিপিতে গোটা ঘটনাটির সত্যতা জানতে সিবিআই তদন্ত দাবী করা হয়। এছাড়াও বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
যদিও গোটা ঘটনাটিকে বিপথে পরিচালিত করছে বিজেপি, প্রথম থেকে এমনটাই অভিযোগ করে এসেছে শাসক দল। এই সূত্র ধরে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, 'বিজেপি এই মৃত্যুর ঘটনায় যে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে তা একেবারেই ঠিক নয়। রাজ্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে তদন্তের স্বার্থে। ইতিমধ্যেই সিআইডিকে এই কেস হস্তান্তর করেছে রাজ্য প্রশাসন।'

No comments:
Post a Comment