নিজস্ব সংবাদদাতা: মাত্র দু'দিন আগেই উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য-রাজনীতি। বিধায়কের মৃত্যুকে যদিও খুন বলে ধরে নিয়েছেন গেরুয়া শিবির। সেই থেকেই তদন্তের দায়ভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার আর্জি জানায় তারা। ঘটনা ঘিরে বনধ, উত্তেজনা সব কিছু তুঙ্গে। চলছে থানায় থানায় ডেপুটেশন প্রদান, ধর্না। এমনকি জল রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত গড়িয়েছে, দাবী উঠেছে মমমতার সরকার ভেঙ্গে দেওয়ার। পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীও চিঠি লিখেছেন রাষ্ট্রপতিকে। এককথায় বিধায়কের মৃত্যু নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক প্রাঙ্গণ। এরই মধ্যে ফের আরও একজন বিজেপি নেতার মৃত্যু আগুনে ঘি ঢালার কাজ করল।
বিজেপির যুব মোর্চার কার্যকর্তার খুনের অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার ভীমপুর থানা এলাকায়। নিহত ওই বিজেপি কার্যকর্তার নাম বাপি ঘোষ, বয়স ৩৮ বছর। সূত্রের খবর, নদীয়ার ভীমপুর থানার গলাকাটা গ্ৰামের বাসিন্দা তিনি। সেখানকার সক্রিয় বিজেপি নেতৃত্ব হিসেবেও পরিচিত বাপি।
অভিযোগ, গতকাল সন্ধ্যায় যখন বাপি ঘোষ রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন তখন হঠাৎ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতকারীরা বাপি ঘোষের ওপর চড়াও হন। বাঁশ, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতিরা। এরপর তড়িঘড়ি তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কলকাতা নীলরতন হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা।
বুধবার বিকেলে নীলরতন হাসপাতালে বাপি ঘোষ মারা যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় ভীমপুর থানা এলাকায়। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ভীমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে ভীমপুর থানার পুলিশ। সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও বাকিদের গ্রেফতারের দাবীতে বিজেপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। শাসকদলের দুষ্কৃতিদের হাতে বিজেপি কর্মীর খুন হওয়ার প্রতিবাদে ভীমপুর রাজ্য সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সংগঠন।

No comments:
Post a Comment