দশভূজার আরাধনা হচ্ছেই, প্রকাশিত হল দুর্গা পুজোর গাইডলাইন - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 16 July 2020

দশভূজার আরাধনা হচ্ছেই, প্রকাশিত হল দুর্গা পুজোর গাইডলাইন



নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতাদুর্গা পুজো হচ্ছেই। বুধবারই নবান্ন থেকে এই আভাস দিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই এবার প্রকাশ্যে এল দুর্গা পুজোর গাইডলাইন। বৃহস্পতিবারেই গাইডলাইন প্রকাশ করল দুর্গাপুজোর সংগঠকদের সংগঠন 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'। করোনা পরিস্থিতিতে সবরকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে পুজো করা যায়, তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট গাইডলাইনটিতে।

দুর্গাপুজোর আর ১০০ দিনও বাকি নেই। প্রত্যেক বছর এই সময় শুরু হয়ে যায় কাউন্টডাউন। তবে এবছরে চিত্রটা বদলে দিয়েছে মারণ ভাইরাস। যদিও এখনও চলছে কাউন্টডাউন, তবে তার কারণটা অন্য। কবে বেরোবে অ্যান্টি করোনা ভ্যাকসিন, গোটা বিশ্ব এখন সেই দিনের অপেক্ষায়। তবে তার মাঝেও টলেনি উৎসব প্রবন বাঙালির মন। ইতিমধ্যেই কলকাতার প্রত্যেকটি বড় পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। নিয়মমাফিক সাবেকি পুজো গুলোর বায়না হয়ে গিয়েছে রথযাত্রা দিনই। তবে এতকিছুর পরেও সুরক্ষার কথা মাথায় রাখতে হবে, বুধবারই নবান্ন থেকে একথা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গা পূজার কথা মাথায় রেখে, পাড়ার ক্লাব গুলিকে এলাকাবাসীকে সচেতন করার নির্দেশ দেন তিনি। তবে কি করে মানা হবে স্বাস্থ্যবিধি ! তা ভেবে কূল পাচ্ছিলেন না কলকাতার ছোট থেকে বড় বাজেটের পুজো উদ্যোক্তারা। এবার গাইডলাইন বের করে সেই চিন্তার সুরাহা করল 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব' কমিটি।

জানা গিয়েছে, এই নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনেই মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করবেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি, পরবর্তীতে এই প্রস্তাবনা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কটির সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু।

গাইডলাইনে বলা হয়েছে,

১) শিল্পী ও কর্মকর্তারা যেন এমন মণ্ডপ তৈরি করেন, যাতে দর্শক বাইরে থেকেই ভালভাবে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, মণ্ডপে না প্রবেশ করেই। অন্যদিকে, প্যান্ডেলের প্রবেশ পথ ব্যারিকেড দিয়ে যতটা সম্ভব দীর্ঘ করতে হবে, যাতে দর্শনার্থীরা অনেকটা পথ অতিক্রম মণ্ডপে পৌঁছান। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে। পাশাপাশি, মূল প্রবেশ পথে ও প্যান্ডেলের ভিতর দায়িত্বরত প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। যাতে তাঁরা কোনওভাবেই সংক্রমিত না হন।

২) প্রশাসনকে কুমোরটুলিকে সঠিক ভাবে স্যানিটাইজ করার জন্য অনুরোধ করতে হবে। ঠাকুর আনার সময় একসঙ্গে অনেকে কুমারটুলিতে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব'।

৩) প্যান্ডেল থেকে লাইট লাগানোর কর্মীদের স্বাস্থ্য সঠিক রাখার দায়িত্ব পুজো কমিটিকে নিতে হবে। তার জন্য থার্মাল চেকিং থেকে বিভিন্ন প্রতিষেধক পুজো কমিটিকে নিশ্চিত করতে হবে।

৪) বর্তমান পরিস্থিতিতে যথাসম্ভব বাজেট কমিয়ে অনাড়ম্বর, স্নিগ্ধ-সুন্দর পুজো দর্শকদের উপহার দিতে হবে। বাকি অর্থ জনহিতকর কাজে ব্যবহার করতে পারে পুজো কমিটিগুলি।

৫) প্যান্ডেল ও প্রতিমার উচ্চতা খুব বেশি না করাই ভাল। চেষ্টা করতে হবে যাতে রাজ্য সরকার বা পুরসভাকে অনুরোধ করে তাঁদের সাহায্যে প্রতিদিন অন্তত একবার পুরো প্যান্ডেল ও প্রতিমা স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করা যায়। সেক্ষেত্রে উচ্চতা বেশী হলে তাতে সমস্যা হবে।

৬) প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দফায় দফার লোক ঢোকাতে হবে। একসঙ্গে বহু দর্শককে মণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। একবারে সর্বাধিক ২৫ জনকে প্যান্ডেলে প্রবেশ করানো যাবে। এমনকি ফোরামের পক্ষ থেকেও পুজোর আগে থেকে প্রচার করা হবে যাতে দর্শকরা সারাদিন ধরে ঠাকুর দেখেন। শুধু রাতের কয়েকঘণ্টা ঠাকুর দেখার জন্যে বেছে না নেন।

৭) স্বেচ্ছাসেবকদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে দর্শকদের মুখ অবশ্যই মাস্কে ঢাকা থাকে। প্রবেশ এবং প্রস্থানের পথে তাঁদের হাতে যদি স্যানিটাইজার দেওয়া যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মূল প্রবেশ পথে একাধিক থার্মাল গান রাখতে হবে। জ্বর নিয়ে কোনও ব্যক্তিকে প্যান্ডেলে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, যাদের পক্ষে সম্ভব তারা পুজোর দিনগুলিতে স্যানিটাইজার স্প্রে করতে পারেন দর্শকদের লাইনের ওপর।

৮) যে সব মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় স্টল হয়, সেখানে দুটি স্টলের মধ্যে অন্তত ৩-৪ ফুটের ব্যবধান রাখতে হবে। স্টলের মালিকদের রেডিমেড খাবার বিক্রিতে জোর দিতে। বসিয়ে লোক খাওয়ানো যাবে না।

৯) ঠাকুরের ভোগ নিবেদনে গোটা ফল দিতে হবে। পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধি পুজো, সিঁদুর খেলার সময় সামাজিক দূরত্ব মানা বাধ্যতামূলক।

১০) প্রতিযোগিতার বিচারের সময় বিশেষ করে ফাইনাল রাউন্ডে ১৫ জনের বেশি বিচারক বা এজেন্সির টিমকে প্যান্ডেলের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি বিচারকে প্যান্ডেলে থার্মাল স্ক্রিনিং-এর পরে ঢুকতে হবে। জ্বর নিয়ে প্যান্ডেলে ঢোকা যাবে না। কেবলমাত্র স্বল্প বাজেটে নান্দনিক উৎকর্ষতা কেই পুরস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad