অপরাধীদের হাতে মৃত্যুর আগে হরিয়ানা পুলিশের এক জওয়ান এমন একটি কাজ করেছিলেন যা পুলিশকে হত্যাকারীদের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে। আসলে পুলিশকর্মী তার মৃত্যুর আগে তার হাতে অপরাধীর গাড়ির নম্বর লিখে রেখেছিলেন। হরিয়ানার সোনীপত জেলায়, গত সপ্তাহে টহল দেওয়ার সময় দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। বিশেষ পুলিশ অফিসার (এসপিও) কাপ্তন সিং এবং কনস্টেবল রবীন্দ্র সিং ৩০ জুন সোনীপত জেলার বুটানার কাছে গোহানা-জিন্দা মার্গে মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন।
পুলিশ ৬ জন অপরাধীকে শনাক্ত করেছে
রাত্রে কারফিউ চলাকালীন সোনীপত জেলার বুটানা এলাকায় একটি সর্বজনীন স্থানে গাড়িতে মদ্যপান করা একদল মাতাল লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। সেই সময় এই দুই পুলিশ সদস্যকে আক্রমন করা হয়। ঘটনার পরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এক্ষেত্রে ৬ জন আসামীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন।
'ইন্ডিয়া টুডে'-এর খবরে বলা হয়েছে, অভিযুক্তকে সহজেই সনাক্ত করা যায় কারণ মৃত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন হাতে তাদের গাড়ির নম্বর নোট করে রেখেছিলেন। মামলার বিবরণ প্রকাশ করে এসপি জশনদীপ সিং রন্ধাওয়া বলেছেন, '২৯ শে জুন সন্ধ্যায় আসামিরা জিন্ড থেকে মদ ও খাবার কিনেছিল। এরপরে তারা সোনীপতের বুটানার একটি পার্কের কাছে গাড়ি থামান। মোটরসাইকেলে থাকা দুই পুলিশ সদস্য ওই অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা থেমে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
তিনি বলেন, 'এই সময়ে রবীন্দ্র সিং তার হাতে তাঁর গাড়ির নম্বর লিখেছিলেন, যাতে আসামিরা যদি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে তবে তারা গাড়ির নম্বরটি ধরে ফেলতে পারেন। তবে অপরাধীরা ছুরির মতো ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা করে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে ওই দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসপি রন্ধাওয়া জানিয়েছেন, ময়না তদন্তের সময় কনস্টেবল রবীন্দ্র সিংয়ের হাতে একটি সংকেত দেখা গেছে।
এরপর গাড়ির নম্বর দ্বারা সনাক্ত করা যায় যে গাড়ির মালিক জিন্দের বাসিন্দা গুরমিত। তদন্ত করে দেখা যায়, তিনি মূল অভিযুক্ত সন্দীপের কাছে গাড়ি বিক্রি করেছিলেন। এরপরে হরিয়ানা পুলিশ একই দিন সন্দীপকে আটক করার চেষ্টা করে এবং তাকে হেফাজতে নিয়ে নেয়।
তিনি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে অন্য আসামি বিকাশ ও অমিতের কথা জানিয়েছেন। দু'জনকে আটক করার জন্য, জিন্দ জেলায় যাওয়া একটি পুলিশ দলকে আক্রমণ করা হয়, এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এনকাউন্টারে নিহত হন অমিত। পুলিশ ছয় আসামিকে শনাক্ত করেছে, এর মধ্যে সন্দীপ ও দুই মহিলা আগে গ্রেপ্তার হয়েছিল। ৭ জুলাই আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

No comments:
Post a Comment