গুপ্তধন, গুপ্তঘর, গুপ্ত সুড়ঙ্গ এগুলো সম্পর্কে শুনতে কার না ভালো লাগে! এগুলো সম্পর্কে শুনলে আমরা রোমাঞ্চিত হয়ে যাই। আর এই রোমাঞ্চ, এই কৌতূহল আরও বেড়ে যায়, যখন এগুলো কোন বিখ্যাত স্থানের মধ্যে অবস্থান করে। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঘুরতে যায়। তা সত্বেও তারা এগুলো সম্পর্কে কিছু জানতে পারে না। আজ আমরা জানবো পৃথিবীর চারটি বিখ্যাত স্থানের অদ্ভুত রহস্য সম্পর্কে। যেগুলো হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা।
Great Sphinx of Giza: পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি হল মিশরের পিরামিড, যা প্রাচীন সভ্যতার এক অমীমাংসিত রহস্য। আমরা সবাই জানি মিশরের পিরামিডে অনেক গুপ্ত ঘর আছে, যেগুলি বন্ধ পড়ে আছে। যার মধ্যে কোটি কোটি টাকা মূল্যের গুপ্তধন থাকতে পারে এবং তার সাথে মমিও থাকতে পারে। এই পিরামিড গুলির মধ্যে Great Sphinx of Giza খুবই বিখ্যাত। আর এটা নিজের মধ্যে অনেক রহস্য লুকিয়ে রেখেছে। ১৯৭০ সালে এর মধ্যে একটা টানেল সিস্টেমের খোঁজ পাওয়া যায়, যার মধ্যে অনেক গুপ্ত ঘর আছে। এরমধ্যে কয়েকটি গুপ্ত ঘর Great Sphinx-এর একদম নিচে পাওয়া যায়। এমনটা আন্দাজ করা হচ্ছে যে মাটির নিচের এই গুপ্তঘর গুলিতে এমন কিছু নথিপত্র পাওয়া যেতে পারে যা মিশরের সঙ্গে জড়িত সব রহস্য সমাধান করতে সক্ষম হবে।
Eiffel Tower: আইফেল টাওয়ার পৃথিবীর অন্যতম সেরা ভ্রমণ ক্ষেত্র গুলির মধ্যে একটি। প্যারিস শহরকে আইফেল টাওয়ারের জন্য সকলে চেনে। পৃথিবীর সপ্তমাশ্চর্যের একটি এই টাওয়ারকে দেখতে দূর দূর থেকে মানুষ চলে আসেন। হয়তো অনেকেরই জানা নেই, এই টাওয়ারে একটি গুপ্ত ঘর রয়েছে। আইফেল টাওয়ারের সবথেকে উপরে টাওয়ারের ডিজাইনার গুস্তাভ আইফেল(Gustave Eiffel) নিজের জন্য একটি ছোট কিন্তু সুন্দর অ্যাপার্টমেন্ট বানিয়েছিলেন, যেখানে একজন মানুষ থাকার মতো ব্যবস্থাপনা আছে। এই জায়গায় বিজ্ঞান সমাজের মানুষের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হতো, যার মধ্যে টমাস আলভা এডিসন (Thomas Alva Edison)-এর নামও রয়েছে। বিভিন্ন ধনী ব্যক্তিরা এই ঘরটি কেনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যেকবার তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
Statue of Liberty: নিউইয়র্ক শহরের নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এই Statue of Liberty-র ছবি। এই মূর্তিটির হাতে ধরে থাকা জ্বলন্ত মশালটি দেখে অনেকেই হয়তো কল্পনা করেন যদি একবার ওখানে উঠতে পারতাম, আর ওখান থেকে নিউইয়র্ক শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতাম, তাহলে বিষয়টা দারুন হত। কয়েক দশক আগে হলে আপনার এই শখটা পূরণ হতো। কিন্তু আমরা হয়তো অনেকেই জানি না, এই জ্বলন্ত মশালের মধ্যে একটা ঘর ছিল। যেটা পরবর্তীকালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘরে মানুষ প্রবেশ করতে পারতেন। এখান থেকে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করতে পারতেন। এই জায়গাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯১৬ সালের ৩০শে জুলাইয়ে কিছু জার্মান এজেন্ট ব্ল্যাক টম আইল্যান্ড এবং জার্সি শহরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ আহত হয় এবং অনেক মানুষের প্রাণ যায়। এই বিস্ফোরণের ফলে স্ট্যাচু অব লিবার্টির মশালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই মশালের মধ্যেই ঐ ঘরটি ছিল। ঘরটি আজও আছে। কিন্তু ওই দিনের পর থেকে ওখানে আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র, এই মশালেই যে গোপন ঘর ছিল তা নয় বরং স্ট্যাচু অফ লিবার্টির আরও কিছু গোপন রহস্য রয়েছে।
এই স্ট্যাচু অফ লিবার্টির নিচে যখন কিছু শ্রমিক কাজ করছিল, হঠাৎ তখন তারা একটি গুপ্ত ঘর দেখতে পায়। এটা কর্তৃপক্ষকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ(Archaeologist) ডাকা হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা অনুসন্ধান করার পর জানতে পারেন, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি যে বেসের উপর তৈরি হয়েছে তা একটা কেল্লা ছিল। যেটা এই দ্বীপে ১৮০৭ সাল নাগাদ ছিল। এর নাম ছিল ফোর্ট উড। এই কেল্লাটা ব্রিটিশদের হামলার হাত থেকে বাঁচার জন্য বানানো হয়েছিল। এমনটা বলা হয়েছিল যে খুঁজে পাওয়া গুপ্ত ঘরে অনেক গোলা বারুদ মজুদ ছিল এবং সাথে অনেক অন্যান্য হাতিয়ারও ছিল। যেগুলো আকস্মিক পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য লুকিয়ে রাখা হতো।
Mount Rushmore: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের South Dakota রাজ্যের Mount Rushmore আমেরিকার জনপ্রিয় ভ্রমণ ক্ষেত্রগুলোর একটি। এখানে আমেরিকার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। চারজন বিখ্যাত রাষ্ট্রপতির চেহারা পাহাড় কেটে খোদাই করা হয়েছে। তবে খুব কম মানুষই জানে এই খোদাই করা মূর্তিগুলোর পিছনে একটি ঘর আছে। যেটা আব্রাহাম লিংকন(Abraham Lincoln)-এর মাথার ঠিক পিছনে অবস্থিত। এই ঘরে আমেরিকার অনেক ইতিহাসের নথিপত্র সংরক্ষণ করে রাখা আছে। তবে এই গুপ্ত ঘরে সাধারণ মানুষের যাওয়ার অনুমতি নেই।
শিপ্রা হালদার





No comments:
Post a Comment