প্রতিবেদন, শিপ্রা হালদার: সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ নিজেদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নদী,খাদ এমনকি সাগরের উপর দিয়েও সেতু নির্মাণ করেছে। আর সেইসব সেতুতে মানুষ রেখেছে বহুভিক উৎকর্ষতা এবং সৃজনশীলতার ছোঁয়া। তার মধ্যে কিছু এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, আপনি অত্যন্ত সাহসী মানুষ না হলে তার উপর পা রাখতে চাইবেন না। আবার যারা অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয় বা বিপদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস রাখেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে অনেক বেশি রোমাঞ্চকর। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রকৃতির বুকে নির্মিত সেরকম ছয়টি ভয়ঙ্কর সেতু সম্বন্ধে।
Trift Suspension bridge: সুইজারল্যান্ডের গ্যাডমেন(Gadmen) শহরের নিকটবর্তী পর্বতমালায় এই সেতুটি অবস্থিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম বিপদজনক সেতু। এই সেতুটি পৃথিবীর দীর্ঘতম এবং সুউচ্চ পায়ে হাঁটার ঝুলন্ত সেতু। সেতুটি ৫৬০ ফুট লম্বা এবং ৩৩০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। সুইজারল্যান্ডের মেজর এনার্জি কোম্পানিগুলো হিমবাহের উপর কাজ করছিল। সেখানে যাতায়াতের সুবিধার জন্য ২০০৪ সালে এটি নির্মাণ করে। কিন্তু, সেতুটি তেমন মজবুত হয়নি এবং সামান্য হাওয়াতেই দোল খেতো। তাই ৫ বছর পর ২০০৯ সালে সেতুটির পুনরায় কাজ হয়। যদিও তারপরও হাওয়াতে দোল খাওয়া বন্ধ করা যায়নি। যেটা এই সেতুকে আরও বিপদজনক করে তুলেছে।
Glass Bridge: চীনের জাংজীয়াজি(Zhangjiajie) অঞ্চলের এই ব্রিজ পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু এবং লম্বা কাঁচের ব্রিজ। ২০১৬ সালে আগস্ট মাসে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষদের জন্য চীন সরকার এটা উন্মুক্ত করে দেয়। প্রায় হাজার ফুট ওপরে ১৪১০ ফুট লম্বা ব্রিজে ত্রি-স্তর বিশিষ্ট কাচেঁর ৯৯ টি প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্রিজ কতটা মজবুত তা দেখার জন্য হাতুড়ি পিটিয়ে এবং ব্রিজের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে তা দেখা হয়েছে। এই ব্রিজের উপরে কাঁচের মধ্য দিয়ে নিচের গভীর গিরিখাত স্পষ্ট দেখা যায়, যেটা অনেক মানুষের হাড় হিম করে দেয়। তারা ভয় পেয়ে চিৎকার করে বসে পড়েন। আবার যারা মজা পান তারা বলেন এটা অসাধারণ। মনে হবে আপনি বাতাসে হেঁটে বেড়াচ্ছেন।
Dragon Bridge: এই অপূর্ব সুন্দর ব্রিজটি ভিয়েতনামের দানান(Danang) শহরের হান নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে। এই ব্রিজের নাম ড্রাগন ব্রিজ। নাম হওয়ার পিছনে কারণটি হল, এই ব্রিজের ওপর একটা বিশাল ড্রাগন তৈরি হয়েছে। ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৩ সালে। ব্রিজটি লম্বায় প্রায় ২১৮৫ ফুট। চওড়ায় ১২৩ ফুট। এই ব্রিজের থিম শুধুমাত্র ড্রাগন নয়, আসল ড্রাগনের মতো এই ড্রাগনটাও মুখ দিয়ে আগুন বের করে। ভিয়েতনামে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মানুষদের জন্য এটা অন্যতম আকর্ষণ।
Monkey Bridge: ভিয়েতনামের অনেক এলাকায় বাঁশ আর কাঠ দিয়ে তৈরি বানরের সেতু দেখতে পাওয়া যায়। এই সেতু গুলোকে বানরের সেতু এই জন্যই বলা হয় কারণ, এর ওপর দিয়ে যাওয়ার জন্য বানরের মতো কষ্ট করে প্রায় ঝুলে ঝুলে যেতে হয়। ভিয়েতনামের জলাভূমি এলাকায় এ ধরনের অনেক ছোট বড় সেতু বানানো হয়েছে। এই সেতু মজবুতের দিক থেকে একেবারেই ভরসা যোগ্য নয়। যখন তখন ভেঙে পড়তে পারে। সেই কারণে এর উপর দিয়ে যারা চলাচল করেন, তারা সব সময় জলে পড়ে ভেজার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন।
Capilano Bridge: কানাডার অন্তর্গত ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ক্যাপিলানো নদীর উপর তৈরি হয়েছে ক্যাপিলানো ব্রিজ। এটা সবুজ ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঝুলে আছে। ১৮৮৯ সালে জর্জ গ্র্যান্ট ম্যাকে নামক এক ব্রিটিশ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নিজের জমির দেখভালের জন্য এই ব্রিজটি তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে এটা world class tourist attraction-এ পরিণত হয়েছে। যে সমস্ত প্রকৃতি প্রেমী মানুষরা প্রকৃতিকে একদম কাছ থেকে অনুভব করতে চায়, তারা এখানকার নৈসর্গিক পরিবেশ দেখে একদম সম্মোহিত হয়ে যান। ১৯৫৬ সালে পুনর্বিন্যাস করা এই ব্রিজ ৪৬০ ফুট লম্বা এবং নদী পৃষ্ঠ থেকে ২৩০ ফুট উঁচু। সামান্য টাকার টিকিট কেটে আপনি এই দারুন ব্রিজটির মজা নিতে পারেন। অফিসিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ৮ লক্ষ মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন।
Hussaini Hanging Bridge: এই ব্রিজ পাকিস্তানে অবস্থিত। এটি একটি পরিত্যক্ত সেতু। বহু পুরানো বাদ দেওয়া সেতুটি আজও ব্যবহার করেন স্থানীয় মানুষরা। ৬০০ ফুট লম্বা জলের মধ্য দিয়ে নির্মিত এই সেতুটি বোরিথ লেকের দু'পাশের গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। ব্রিজটি তৈরি হয়েছে কাঠ, দড়ি এবং তার দিয়ে। কাঠগুলো পাতা আছে অনেকটা দূরে দূরে। তাই এই সেতুর উপর দিয়ে চলার সময় সামান্য মনোসংযোগ হারালেই সোজা গিয়ে পড়তে হবে লেকের জলে।







No comments:
Post a Comment