হাওড়া জেলায় দিল্লি থেকে নিজ বাড়ীতে ফিরে আসা একটি পরিবারকে স্থানীয়রা করোনভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সেই অঞ্চলে প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে তাদের শ্মশানে একটি রাত কাটাতে হয়েছিল।
শুক্রবার রাজধানী এক্সপ্রেসে মহুয়া মুখোপাধ্যায় এবং তার ছেলে রোহিত দিল্লি থেকে ফিরে এসেছিলেন।
কয়েক বছর আগে তার স্বামীকে হারিয়ে মহুয়া তার ছেলের সাথে দিল্লিতে একটি জুয়েলারী ব্যবসা শুরু করে। মহামারীজনিত কারণে তাদের ব্যবসা ভাল না হওয়ায় মা এবং ছেলে রাজপুর থানা এলাকার রাঘুদেবপুর-ডাকবাংলোতে অবস্থিত তার বাবার জায়গায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তারা যখন এই অঞ্চলে পৌঁছেছিলেন, স্থানীয়রা তাদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, যেহেতু তারা দিল্লি থেকে ফিরে এসেছিলেন, তাই তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।
মহুয়া বলেন, যে তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের সাথে কথা বলেছিলেন এবং তাদের ফিরে আসার কথা জানিয়েছিলেন।
লোকজনকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে মহুয়া তার ছেলের সাথে সাহাপুরের পাঞ্চালা থানার গিয়েছিলেন যেখানে তার বাবার আরও একটি বাড়ী রয়েছে। ওই অঞ্চলের লোকেরাও তাদের অনুমতি দেয় নি, যা তর্ক- বিতর্ক এর দিকে পরিচালিত করেছিল।
অবশেষে, ছেলে, বাবা এবং এক ভাইকে সাথে নিয়ে মহুয়া পাশের বাসুদেবপুর আগুনখালী শ্মশানে গিয়ে সেখানে একটি ঘরে রাত কাটান, যেখানে খারাপ আবহাওয়ার জন্যে লাশও রাখা হয়েছিল।
শনিবার সকালে পুলিশ কর্মকর্তারা এই ঘটনাটি জানতে পেরে তারা পরিবারটিকে তাদের রঘুদেবপুর-ডাকবাংলো বাড়ীতে নিয়ে যান, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বাড়ী ফিরতে পেরে দীর্ঘকালীন স্বস্তি কাটিয়ে মহুয়া ও তার ছেলেকে জেলা কর্মকর্তারা ১৪ দিনের জন্য বাড়ীতেই কোয়ারান্টিনে থাকতে বলেন।

No comments:
Post a Comment