শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয় দেশের হাজার হাজার মহিলা এখনও আত্মহত্যা করছেন। মধ্যপ্রদেশের রতলাম শহর এমনই এক করুন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে এক ২৭ বছর বয়সী মহিলা ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর আগে তার দুই সন্তানের জন্য লেখা সুইসাইড নোটটি পরে সবাই কেঁদেছেন।
আসলে রেলকর্মীর উপর আবেগের নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ছিল যে তাকে শুক্রবার রাতে আত্মহত্যা করতে হয়েছিল। পরদিন যখন সে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেনি, তখন পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে দেখতে পেল যে সে পাখা থেকে ঝুলছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠায়। তবে শব নিয়ে বাবা-মা ও শ্বশুরবাড়ির মধ্যে বিরোধ ছিল। কোনোভাবে পুলিশ মামলাটি শান্ত করে এবং শেষকৃত্যের জন্য শব পরিবারের সদস্যের কাছে হস্তান্তর করে।
মৃত্যুর আগে মহিলা তার দুই সন্তান কুশল ও হর্ষ এর জন্য চার লাইনের আবেগপূর্ণ সুইসাইড নোটে লিখেছেন-" জন্মের সময় যাদের মা মারা যায়, তারাও বেঁচে থাকে। আমার বাচ্চা তোমরাও বাঁচবে।"
২০১৩ সালে ইঞ্জিনিয়ার গণেশ আওয়ানার সাথে ভাবনার বিয়ে হয়েছিল। তাদের দুই পুত্র কুশল(৫) ও হর্ষ(৩) রয়েছে। নিহতের বাবা মহেশ ডোই বলেছেন সব ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু দু'বছর আগে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুকের জন্য মেয়ের কাছে টাকা চাওয়া শুরু করে। তারা প্লটের জন্য বাবার কাছে টাকা চাইতে বলে। যখন ভাবনা তা করার জন্য মানা করে তখন তারা ভাবনার সাথে মারপিট শুরু করে এবং বাচ্চাদেরকে রেখে ভাবনাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে পুলিশের সহায়তায় ভাবনা আবার শ্বশুরবাড়িতে থাকা শুরু করে। কিন্তু প্রায় রোজই ঝগড়া হতো, তারা আমার সাথেও তাকে কথা বলতে দিত না।

No comments:
Post a Comment