করোনা মোকাবিলায় অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 3 June 2020

করোনা মোকাবিলায় অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা




সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় অ্যান্টিবায়োটিক। যা কখনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। ভাইরাসকে কাবু করতে ব্যবহার করা হয় টিকা বা ভ্যাকসিন। কিন্তু গোটা বিশ্বে এখন মৃত্যু যম নিয়ে হাজির হয়েছে করোনাভাইরাস। এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে করোনাভাইরাস। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন এ ভাইরাসে। বিকল্প বা সহায়ক চিকিৎসায় অনেককেই সুস্থ করে বাড়ী ফেরানো গেলেও কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না ভাইরাসের সংক্রমণ! আর অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়তে গিয়ে অনেকে ব্যবহার করছেন অ্যান্টিবায়োটিক। আর সেটি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।


মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অ্যান্টিবায়োটিকের অধিক ব্যবহার ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জোরদার করবে। এ কারণে চলমান সংকট এবং সংকটোত্তর কালেও অধিকহারে লোক মারা যাবে।

স্থানীয় সময় সোমবার ডব্লিউএইচওর মহাসচিব টেডরস আধানম গেব্রিয়াসিস জেনেভা সদরদপ্তরে ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, কোভিড-১৯ এর কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়ে গেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অধিক ব্যবহারের কারণে ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধক্ষমতার হারও বাড়বে। এর ফলে মহামারী ও মহামারীর পরেও মৃত্যু হার বেড়ে যাবে।

ডব্লিউএইচও বলছে, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের হুমকি মোকাবিলায় মাত্র কিছু সংখ্যক কোভিড-১৯ রোগীর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন।

সংস্থাটি চিকিৎসকদের জন্যে ইস্যু করা দিকনির্দেশনায় যে সকল লোকের কোভিড -১৯ এর মৃদু উপসর্গ কিংবা অল্প অসুস্থতা রয়েছে তাদের অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়ার কথাই বলেছে।

টেডরস বলছেন, নির্দেশনায় জীবন রক্ষায় জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠেকানোর কাজে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। তিনি জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আজকের এ সময়ের সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন।

টেডরস অ্যান্টিবায়োটিক সঠিকভাবে ব্যবহার না করার বিষটিকে তুলে ধরে বলেন, কিছু কিছু দেশে এটি বেশি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশ যেখানে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সহজলভ্য নয়। আর অ্যান্টিবায়োটিকের অতিব্যবহার অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ এবং মৃত্যুহারও বাড়াচ্ছে।

এদিকে গত ডিসেম্বরে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর অ-ছোঁয়াচে রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। তারা বলছে, মে মাসের তিন সপ্তাহের জরিপে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হৃদরোগীদের চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে করোনাভাইরাসর প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে গণজমায়েতের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কৃষাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড একজন শেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে প্রাণ হারায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এখন উত্তাল। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শত শত লোকের কারণে ভাইরাসটির সংক্রমণ দ্রুত ছড়াবে বলেও আশংকা করেছেন টেডরস।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad