নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া : বিশ্বে করোনা সংক্রমণ মহামারীর আকার নিয়েছে। অন্য জেলার পাশাপাশি হাওড়া জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। করোনা সংক্রমণ রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার লকডাউন জারি রেখেছে। চলছে ৫ম দফায় লকডাউন। দিন আনা, দিন খাওয়া মানুষজন সংকটে।রুজি-রোজগার বন্ধ। করোনা মোকাবিলায় আর্থিক সাহায্য ও অন্যান্য সাহায্য নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের চাপানোতর চলছে। দলীয় নেতা-নেত্রী, কর্মী-সমর্থকদের পোয়া বারো। মাঝখান থেকে অসহায় মানুষজন সমস্যায় পড়েছেন। তার উপর ঘূর্ণিঝড়'উম্ফুন' ২০ মে এ রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গকে কার্যত বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া মহকুমার ও থানার গড়চুমুক, ৫৮ গেট এবং শ্যামপুর থানার গাদিয়াড়া, শিবগঞ্জ সহ উলুবেড়িয়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করলেন বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা আব্দুল মান্নান, বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। উলুবেড়িয়া মহকুমায় 'উম্ফুন' ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজনদের সঙ্গে কথা বলেন।রাজ্যের বিরোধী দলনেতাদের নিজেদের কাছে পেয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা, শাসক দলের নেতা-নেত্রী, কর্মী, সমর্থকদের বিমাতৃ সুলভ আচরণের কথা বলেন।
ক্ষতিগ্ৰস্তদের সঙ্গে কথা বলে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'উম্ফুন' ঝড়ের তান্ডব লীলায় মাটির বাড়ীর টালি, টিন ও অ্যাসবেসটার্সের চালগুলি উড়ে গেছে। মাটির বাড়ীর অধিকাংশ পড়ে গেছে। কোন কোন গুলি বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। আজ পর্যন্ত অর্থাভাবে মানুষ মাথা গোঁজার কোন রকম ব্যবস্থা করতে পারে নি। খোলা আকাশের নিচে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে। তারা কিভাবে আছে? কি খাচ্ছে? কি করে দিন চালাচ্ছে? তা প্রশাসন খোঁজ খবর রাখেনি। শাসক দলের নেতা-নেত্রী, কর্মী, সমর্থকরা নিজ নিজ আখের গোছাতে ব্যস্ত।' তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, 'নতুন নতুন বসানো বিদ্যুতের খুঁটি কিভাবে ভেঙে যায়? কাটমানি না নিলে এমন হওয়ার কথা নয়'।
বিধান সভার বিরোধী দল নেতা আব্দুল মান্নান বলেন,' এতগুলো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সরকার নি্ঃশ্চুপ।মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাজ্য পরিচালনা ও রাজ্যের মানুষদের সুখে,দুঃখে তাদের পাশে থেকে সহায়তাদানে সম্পূর্ন ব্যর্থ মমতা ব্যানার্জি। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দানের ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা না হলে বাম ও কংগ্রেস দল যৌথভাবে আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে।

No comments:
Post a Comment