আচমকা বৃষ্টিতে পাকা ধান মাঠেই নষ্ট হচ্ছে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ থানার ভুইহাঁরা গ্রামে। পাকা ধান ঘরে তুলতে আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষকরা। ধানি জমিতে জল জমে যাওয়ায় ডিঙি নৌকার সাহায্য নিয়েছে কৃষকরা। কৃষিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের আর্থিক সহয়তার জন্য বীমা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করছেন।
উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের মুস্তাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুইহাঁরা গ্রাম। এই গ্রামের অধিকাংশ এলাকাই নীচু। বৃষ্টির সময় ভুইহাঁরা গ্রাম সংলগ্ন এলাকা চান্দৌল,ফতেপুর সহ বিস্তীর্ন এলাকার জল নেমে এই ভুইহাঁরা গ্রামে জমে হয়। জল বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকায় কৃষি জমিতে জল জমে থাকে। জমিতে জল জমে থাকায় কৃষকদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়।এবারে আচমকায় কয়েকদিন প্রবল বৃষ্টির কারনে ধানি জমিতে একহাঁটু জল জমে যায়। মাঠে পাঁকা ধান থাকায় জমা জলে পাঁকা ধান নষ্ট হতে শুরু করে। নিরুপায় হয়ে কৃষকরা ডিঙি নৌকার সাহা্য্য নেন কৃষকরা। টিন দিয়ে নৌকা বানিয়ে ধান কেটে নৌকায় তুলে ডাঙায় নিয়ে আনার আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষকরা।
লকডাউনের কারনে মাঠে কাজ করার শ্রমিকের আকাল। যারা কাজ করতে রাজী হচ্ছেন তারা পারিশ্রমিক অনেকগুন বেশী দাবী করছেন। ফলে কৃষকরা ধান চাষ করে চরম বেকাদায় পড়েছেন।মালদার মাছ চাষীদের বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে জলের মধ্যে ডিঙি নৌকা দিয়ে ফসল ঘরে তোলার আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছেন ভুইহাঁরা গ্রামের ধান চাষীরা। সেক্ষেত্রেও কৃষকদের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাপ এবং জোঁক। জমা জলে এই দুইয়ের আক্রমনে কৃষকদের প্রান হাতে নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
বিষয়টি ব্লক কৃষিদপ্তরের নজরে আসার পর তারা এলাকা সরোজমিনে পরিদর্শন করেন। ব্লক কৃষি আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রায় ১৫০ বিঘা ধান এবং ১৫০ বিঘা ভূট্টা জলের তলায় আছে। ভুইহাঁরা গ্রামের এই সমস্ত কৃষকদের বাংলা শষ্য বীমা যোজনায় আওতায় আনা হয়েছে। কৃষকরা যাতে ক্ষতিপূরন পান, তার জন্য ইতিমধ্যে বীমা কোম্পানীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাদা কাগজে আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে। ব্লক কৃষি আধিকারিকের আশা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ফসলের ক্ষতিপূরন পেতে কোন সমস্যা হবে না।

No comments:
Post a Comment