নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেওয়ারিশ লাশ বিতর্ক ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবার রাজ্য বিজেপি সভাপতির নিশানায় কলকাতা পুরসভার প্রশাসক। শনিবার ফিরহাদ হাকিমকে 'বাসি', 'অযোগ্য মেয়র' বলে কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। শুধু তাই নয়, 'তবেদাড়ির জন্য তিনি চাকরি পেয়েছেন' বলেও এদিন প্রশাসককে আক্রমণ করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।
শনিবার সকাল থেকেই রাজ্যপালের সঙ্গে কখনও বা ট্যুইট যুদ্ধে, কখনও বা বাকযুদ্ধে দেখা গিয়েছে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমকে। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই পাল্টা ফিরহাদকে কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, 'রাজ্যপাল প্রশাসনের প্রধান হিসেবে কলকাতা পুরসভার চেয়ারপারসনের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিলেন। অথচ ফিরহাদ হাকিম নিজে না গিয়ে পুরকমিশনারকে পাঠিয়েছেন। গভর্নরের সামনে মুখ দেখানোর পরিস্থিতি নেই, সামনে যাওয়ার সাহস নেই। তাই রাজ্যপালকে এড়িয়ে গিয়েছেন প্রশাসক।'
এরপরই সরাসরি ফিরহাদ হাকিমের নাম করে আক্রমণ শানান দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, 'বাসি মেয়র বসে রয়েছে কর্পোরেশনে। সরকারের এই সমস্ত অপকীর্তি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই ফের প্রশাসক করা হয়েছে ফিরহাদ হাকিমকে। এইজন্যই পেছনের দরজা দিয়ে যখন তাকে ক্ষমতায় আনা হয়েছিল, আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলাম।' মেয়রের আসনকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে বলেও এদিন মন্তব্য করেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি। যদিও এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। এদিন ব্যক্তিগত আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'ফিরহাদ হাকিমের মত অযোগ্য, তবেদার মেয়র এর আগে আমরা দেখিনি। আর এই তবেদড়ির জন্যই তিনি চাকরি পেয়েছেন। সুব্রত বাবুর মেয়রের সময়কাল আমরা দেখেছি। উনি যোগ্য ছিলেন, ওনাকে পুনরায় মেয়র করলে এই বিতর্ক এড়ানো যেত।'
প্রসঙ্গত, বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা গেছে, গড়িয়ার আদি মহাশ্মশানে একজন কর্মী আঁকশি দিয়ে টেনে পচা-গলা মৃতদেহ গাড়িতে তুলছেন। সেই গাড়িটির গায়ে কলকাতা পুরসভা লেখা ছিল। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে বিতর্ক ছড়ায় রাজ্যজুড়ে। প্রশ্ন উঠতে থাকে কিভাবে মানুষের মরদেহকে এভাবে জীবজন্তুর মতো টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসক হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের দাবি জানান দিলীপ ঘোষ সহ রাজ্যের অন্যান্য বিরোধী দলনেতারাও। যদিও সে প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, 'পদত্যাগের দাবি করা সহজ, কিন্তু নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।'
এরপরে এই বিষয়টি নিয়ে ট্যুইটে সরব হন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়। গোটা ঘটনাটি জানতে চেয়ে শুক্রবার একাধিক ট্যুইট করেন তিনি। এ বিষয়ে রাজ্যপালের তরফ থেকে রিপোর্ট তলব করা হয় মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব সহ কলকাতা পুরসভার প্রশাসক এবং পুর কমিশনের কাছে। এরপরেই এদিন রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। যদিও রাজ্যপালের কাছে এ বিষয়ে কোন রকম রিপোর্ট পাঠাবেন না বলেই শুক্রবারই সাফ জানিয়ে দেন পুরমন্ত্রী কথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। এমনকি এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে পুরকমিশনার দেখা করলেও যাননি প্রশাসক। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই ফিরহাদ হাকিমকে একহাত নেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ মহলের থাকা কর্তাদের এই আচরণ কোন সভ্য দেশে দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ।

No comments:
Post a Comment