টিকটক ভিডিও করতে গিয়ে ফুলহার নদীতে ডুবে এক যুবক মারা যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিহার-বাংলা সীমান্তে লভা ও দেবগঞ্জের মধ্যে ফুলহার নদী ঘাটে হরিশচন্দ্রপুর থানাধীনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘন্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পরে পুলিশ রাতে যুবকের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। ভিডিও বানানোর সময় তাঁর অনেক বন্ধুরাও তাঁর সাথে ছিলেন। এ ঘটনায় বন্ধুদের জড়িত থাকার সন্দেহে পরিবারের সদস্যরা হরিশচন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহত যুবকের নাম সেলিম আক্তার (২২)। তিনি মালদার হরিশচন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত কুমেদপুর এলাকার দক্ষিণ তালগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটুন সাদলিচাক গ্রামের বাসিন্দা অসীম ও বাপি টিকটক একটি ভিডিও বানাতে সেলিম আক্তারকে ফুলাহার নদীর তীরে নিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ, সেখানে স্নানের অজুহাতে তাকে জলে নামান হয়। এদিকে বাপি ও আসিম তাকে ডুবিয়ে হত্যা করে। একই সাথে নদীর আশেপাশের লোকজন জানিয়েছিলেন যে, তিন যুবক নদীতে স্নান করছে। কিছুক্ষণ পরে, দুই যুবক পোশাক পরে নদী ছেড়ে বাড়ীর দিকে রওনা হয়। স্থানীয়রা তাকে তৃতীয় জনের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা দু'জনই কোনও উত্তর দেয়নি। ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা দুই যুবককে ধরে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় দেখা গেল, তৃতীয় ব্যক্তি জলে ডুবে গেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করে পরিবারকে জানায়। খবর পেয়ে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে। রাতের তল্লাশির পরে ওই যুবকের লাশ জল থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ নিহতের লাশটি পোস্টমর্টেমের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

No comments:
Post a Comment