নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা আবহে মাস্ক পড়া যেমন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ঠিক তেমনই ব্যবহৃত মাস্কগুলোকে যথাস্থানে ফেলাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে ব্যবহৃত মাস্ক পড়ে রয়েছে রাস্তার যেখানে-সেখানে। এর থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রবণতা থেকে যাচ্ছে অনেকখানি। তাই এবার এই পরিস্থিতিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভেবেছে পুর কর্তৃপক্ষ। এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আর তাই যত্রতত্র ব্যবহৃত মাস্ক ফেলা রোধে কড়া আইন আনতে চলেছে কলকাতা পুরসভা।
এই প্রসঙ্গে প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'রাস্তায় ব্যবহৃত মাস্ক পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এটা ঠিক নয়। তার কারণ মাস্কের মধ্যেও সংক্রমণ থাকতে পারে। আর সেই সংক্রমণ যেসব সাফাই কর্মীরা সাফাই করবেন তাদের দেহেও চলে যেতে পারে। তাই আমি সাফাই কর্মীদের নির্দেশ দেব তারা যেন সঠিক পোশাক পরেই এই ধরনের সাফাই কাজ করেন। পাশাপাশি এই মাস্কের ফলে ক্ষতি হতে পারে আশেপাশের মানুষেরও। যারা ফেলছেন তাদের এটা মাথায় রাখা উচিৎ,সাফাই করে যারা তারাও মানুষ। তাই এ ধরনের কাজের জন্য করা নিয়ম আনার প্রয়োজন আছে।'
প্রসঙ্গত, চিকিৎসকরা বারবার জানিয়েছেন, করোনার হাত থেকে বাঁচার জন্য যে বিশেষ পোশাক, মাস্ক, গ্লাভস, জুতো পড়া হচ্ছে সেগুলিকে ব্যবহার করার পর যথাস্থানে ফেলতে হবে। অন্যথায় ব্যবহৃত সামগ্রী থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। শুধু যথাস্থানে ফেলা নয় সেগুলিকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ধ্বংসও করতে হবে। কিন্তু সেই সব কিছুর তোয়াক্কা না করেই যত্র তত্র দেখা যাচ্ছে পড়ে থাকছে ব্যবহৃত মাস্ক, পোশাক। তবে শুধু রাস্তাতেই নয় একই ছবি দেখা গেছে শহরের একাধিক হাসপাতালেও।
কিছুদিন আগেই কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গ্রীন বিল্ডিঙের সামনে পড়ে ছিল ব্যবহৃত মাস্ক, পিপিই, জুতোর কভার। আর সেখান দিয়েই যাতায়াত করছিলেন রোগীর পরিজনেরা। এমনকি সাফাই কর্মীরাও সংক্রমণের ভয় সেগুলি পরিষ্কার করতে সাহস পাচ্ছিলেন না। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন, কলকাতা পুরসভার রাস্তায় দেখা যাচ্ছে একাধিক ব্যবহৃত মাস্ক পড়ে থাকতে। সে ক্ষেত্রে সাফাই কর্মীরা কিছু ক্ষেত্রে তা পরিষ্কার করতে বাধ্য হচ্ছেন আবার কিছু ক্ষেত্রে সেগুলি এড়িয়েই চলে যাচ্ছেন। পরিষ্কার করতে গেলে সাফাই কর্মীদের সংক্রমনের ভয় থেকে যাচ্ছে আবার রাস্তায় ফেলে রাখলে সেগুলি থেকে সাধারণ মানুষের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছে।

No comments:
Post a Comment