অদৃশ্য দানবের আঘাত থেকে গোটা বিশ্বকে বাঁচিয়েছিলেন যারা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 2 June 2020

অদৃশ্য দানবের আঘাত থেকে গোটা বিশ্বকে বাঁচিয়েছিলেন যারা



৭০-এর দশকের আগেরকার কথা।তখনও রেফ্রিজারেটর আবিষ্কৃত হয়নি। তখনকার দিনে খাবারের পচন রোধ করা ছিল দুষ্কর। সেইসময় যুক্তরাষ্ট্রে 'আইসম্যান' নামক এক ধরণের পেশা ছিল।আইসম্যানরা বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে বরফ পৌঁছে দিতেন। বরফগুলো আইসবক্স নামক যন্ত্রে রেখে খাবারের পচন রোধ করার চেষ্টা করা হতো। কিন্তু বরফ গলে jl ছড়ানোর কারণে এ পদ্ধতিটি মোটেও সুবিধাজনক ছিল না।

সমস্যাটি সমাধানে ফার্দিনান্দ ক্যারে নামের এক ব্যক্তি গ্যাসচালিত রেফ্রিজারেটর উদ্ভাবন করেন। এ যন্ত্রে শীতলকারক হিসেবে অ্যামোনিয়া অথবা সালফার ডাই অক্সাইড ব্যবহার করা হতো। কিন্তু দুটি গ্যাসই ছিল বিষাক্ত এবং দূর্গন্ধযুক্ত। এইসব গ্যাস অনেক সময় পাইপ ফুটো হয়ে খাবারে সঙ্গে মিশে যেতো। এর ফলে নিরাপদ আর উত্তম শীতলকারক একটি পদার্থের প্রয়োজন অনুভূত হয়। কিন্তু পরিবেশে এমন কোন পদার্থের অস্তিত্ব ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা সিএফসি নামক এক ধরণের পদার্থ তৈরি করেন। নতুন এই পদার্থটি শুধুমাত্র শীতলকারক হিসেবেই নয়,শেভিং ফোম এবং চুলের জেলসহ অনেক পণ্যে হয়ে উঠে অত্যাবশকীয় উপাদান। এমনকি অগ্নিনির্বাপক ও পরিষ্কারক হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

সিএফসির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল ফ্রিয়ন। এটি যুগের পর যুগ বহুল ব্যবহৃত হয়ে আসলেও এর কোন ক্ষতিকর দিক পরিলক্ষিত হয় নি। কিন্তু ৭০ এর দশকে মলিনা এবং রোন্যাল্ড নামক দুজন বিজ্ঞানী সিএফসির ক্ষতিকর দিক আবিষ্কার করেন। তারা দেখতে পান সিএফসির প্রভাবে পৃথিবীর ওজোনস্তর ইতিমধ্যে পাতলা হয়ে গিয়েছে।

সিএফসির অণুর একটিমাত্র ক্লোরিন পরমাণু ১ লক্ষ ওজোন পরমাণুকে ভেঙ্গে দিতে সক্ষম।ওজোনস্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি থেকে পৃথিবীর জীবজগতকে রক্ষা করে। ওজোনস্তর না থাকলে পৃথিবীতে জীবের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এদিকে সিএফসির ব্যবহার ছিল বিপুলসংখ্যক পণ্যে। এটি ছাড়াও পৃথিবী কল্পনা করাও ছিল দুষ্কর।শিল্পপতিরা বিজ্ঞানীদের দেওয়া বিপদসংকেত ভিন্ন দিকে নেওয়ার অপচেষ্টা করেন। তবে বিজ্ঞানী মলিনা এবং রোল্যান্ড হাল ছাড়েন নি। তারা মানুষকে সচেতন করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান।
অবশেষে ৮০'র দশকে শুরু হয় সিএফসির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক আন্দোলন। সারা বিশ্বের অসংখ্য সাধারণ মানুষ সিএফসিকে নিষিদ্ধের দাবীতে রাস্তায় নেমে আসেন। একসময় বিশ্বনেতৃবৃন্দেরও টনক নড়ে উঠে। সিএফসি নিষিদ্ধ হয় সবগুলো দেশে। তারপর দীর্ঘদিন এই অদৃশ্য দানবের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়া ওজোনস্তর ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad